বাগেরহাটের দুটি ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদে ঈদের দিন থেকে পর্যটকদের ঢল মেমেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন হাজার হাজার পর্যটক। রয়েছে বিদেশি পর্যটকও। ঈদের দিন থেকে চলে আসা পর্যটকদের উপচে পড়া ঢল এখনো শেষ হয়নি। সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। সুন্দরবন বিভাগ ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বলছে ঈদের দিন থেকেই এই দুটি ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইডে পর্যটকদের ঢল নামা শুরু হয়ে এখনো চলছে। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র ছাড়াও হিরণ পয়েন্ট, শরণখোলার আলীবান্ধা, হারবাড়িয়া, কটকা, কচিখালী, জামতলা সিবিচ, টাইগার পয়েন্ট, দুবলা, বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড, ত্রিকোণ আইল্যান্ড, কলাগাছি ও দোবেকি পর্যটন স্পটগুলোসহ শরণখোলা উপজেলার বলেশ্বর নদীর মেরিন ড্রাইভ রিভারভিউ ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে পর্যটকদের ঢল নামেছে। বলেশ্বর নদীর মেরিন ড্রাইভ রিভারভিউ ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে প্রতিদিন বিকেলে বঙ্গোপসাগর মোহনায় সূর্যাস্ত দেখতে এই কেন্দ্রটিতে ভিড় করছেন হাজার হাজার পর্যটক।
সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র ঘুরতে আসা চাপাইনবাবগঞ্জের আলী হায়দার খান ও সুনামগঞ্জের গৃহিনী স্বপ্না রায় জানান, এবার ঈদের লম্বা ছুটি পেয়ে তারা পরিবার নিয়ে সুন্দরবন দেখতে এসেছেন। করমজলে তারা কুমির, হরিণ, বানর, বিলুপ্তপ্রজাতির বাটাগুড় বাচকা কচ্ছপ দেখাসহ বনের মধ্যে ফুটট্রেলের ঝুলন্ত ব্রিজ ও টাওয়ারে উঠে সুন্দরবনের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করেছেন। এছাড়াও তারা অন্যান্য পর্যটকদের সাথে নৌকায় করা ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড এই বনের মধ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন। মানিকগঞ্জ থেকে সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদে দেখতে আসা ইলিয়াস হোসেন জানান, আমি একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করি। ঈদের টানা ছুটি কাটাতে পরিবারসহ বন্ধুদের নিয়ে বাগেরহাটের দুটি ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড সুন্দরবন ও ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখতে এসেছি। ষাটগম্বুজ মসজিদের প্রাচীন এ নিদর্শন দেখার পর সুন্দরবনের করমজল ইকোট্যুরিজম দেখতে এসেছি। দুটি ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড দেখতে জীবনে অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল এতদিন সময় হয়ে ওঠেনি। আজ আসতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। পাবনা থেকে আসা এলাহি আহমেদ সরকার ও তার তার স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, শরণখোলার বলেশ্বর রিভারভিউ ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে, হযরত খানজাহান আলী (রহ:) মাজার হয়ে ষাটগম্বুজ মসজিদ দেখে অনেক ভালো লাগছে। এরপর বিকালে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র এসে খুবই ভালো লাগছে। সুন্দরবন দেখার অনেক দিনের স্বপ্ন সার্থক হয়েছে। এদের মতো অনেক দেশি বিদেশি ভ্রমণ পিপাসুরা ঈদের দিন থেকে সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ ও শরণখোলার বলেশ^র রিভারভিউ ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে এসে তাদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন।
প্রত্নতত্ত্ব ও যাদুঘর বিভাগের ষাটগম্বুজ মসজিদের কাষ্টুডিয়ার মো. জায়েদ জানান, ঈদের দিন থেকে ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড ষাটগম্বুজ মসজিদে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। পর্যটকদের ঢল সামাল দিতে আমরাসহ ট্যুরিস্ট পুলিশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার মো. আজাদ কবির জানান, সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রে ঈদের দিন থেকে দেশী বিদেশী পর্যটকদের ঢল নেমেছে। ছাড়াও হিরণ পয়েন্ট, হারবাড়িয়া, আলীবান্ধ, কটকা, কচিখালী, জামতলা সি-বীচ, টাইগার পয়েন্ট, দুবলা, বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড, ত্রিকোণ আইল্যান্ড, কলাগাছি ও দোবেকি পর্যটন স্পটগুলোতে শত শত পর্যটকদের ভিড় লেগেই রয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/এএ