ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রতিবারের মতো এবারো ঠাকুরগাঁও কারাগারে প্রিয়জনকে ঈদের বিশেষ খাবারের স্বাদ দিতে এসেছেন স্বজনরা। শুধু তাই নয়; কারাগারের পক্ষ থেকেও দেয়া হচ্ছে বিশেষ খাবার। তবে এবারে একটু ভিন্ন আয়োজন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। উন্নতমানের খাবারের পাশাপাশি বন্দীদের জন্য বিভিন্ন উপকরণ ও কারাগারে আগত ব্যক্তিদের ফুল দিয়ে বরণসহ নানা আয়োজন করা হয়।
আজ বুধবার (২ এপ্রিল) সকালে ঠাকুরগাঁও কারাগারে গিয়ে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
কারাগারে গিয়ে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে কারাগারে থাকা বন্দীদের জন্য উন্নতমানের খাবারের পাশাপাশি কারা বন্দীদের সেন্ডেল ও মায়ের সাথে অবস্থানরত শিশুদের নতুন পোশাক ও মহিলাদের জন্য মেকাপের জন্য বিভিন্ন সামগ্রী দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া কারাবন্দী থাকা স্বজনদের সাথে দেখা করতে আসা দর্শনার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন জেলা কারাগারের জেলার মো. শাহারিয়ার আলম চৌধুরী। এর পাশপাশি তৃষ্ণার্থ দর্শনার্থীদের দিচ্ছেন সরবতও। এছাড়া ফ্রি মেডিকেল চেকআপের ব্যবস্থা, দর্শনার্থীদের সাথে আসা শিশুদের চকলেট বিতরণ সহ সাক্ষাত এবং বিভিন্ন ভিন্নতর আয়োজন করেন ঠাকুরগাঁও কারা কর্তৃপক্ষ।
কারা কর্তৃপক্ষের এমন আয়োজনে খুশি বন্দীদের সাথে দেখা করাতে আসা স্বজনরাও। ধন্যবাদ দিচ্ছেন জেলা কারাগারের সংশ্লিষ্টদের।
কারাগারের বাইরে দাঁড়িয়ে কথা হয় কয়েকজন দর্শনার্থীর সাথে। তারা বলেন, ঈদের ২য় দিন থেকে বাসার রান্না করা খাবার দিতে পারছি। কারা কর্তৃপক্ষের এমন আয়োজন দেখে আমরা খুশি। কারণ নিজেদের হাতের রান্না করা খাবার দিতে পারছি। শুধু তাই নয়; তারা আমাদেরকেও অনেক আপ্যায়ন করেছে। ধন্যবাদ কারা কর্তৃপক্ষকে।
এ সময় কথা হয় কারাগার থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত কয়েকজন কয়েদীর সাথে। তারা বলেন, নতুন জেলার যোগদানের পর সমগ্র কারাগারের সার্বিক চিত্র পাল্টে গেছে। খাবারের মান উন্নত হয়েছে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ক্যান্টিনের মালামাল সহজলভ্যে কিনতে পারছি। তিনি প্রত্যেক বন্দীর সাথে খুবই আন্তরিক ও মানবিক।
এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারের জেলার মো. শাহারিয়ার আলম চৌধুরী বলেন, ‘বর্তমান কারা মহাপরিদর্শকের নির্দেশনায়, ডিআইজি প্রিজন রংপুর মহোদয়ের তদারকিতে ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতায় এবং জেল সুপার পলাশ তালুকদায়ের আন্তরিকতায় এসব সম্ভব হয়েছে। আমরা কারাগারকে সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে সার্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা প্রতিটি সময় চেষ্টা করি যেন কোন বন্দী এখানে খারাপ ব্যবহারের শিকার না হয়। আমি নিজে গিয়ে কমবেশি সবার সাথে কথা বলি।’
বিডি প্রতিদিন/জামশেদ