ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দিনব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ৪৫ জন আহত হয়েছে। হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ ও তুজারপুর ইউনিয়নের সরইবাড়ি গ্রামে বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দফায় দফায় সংঘর্ষে এ আহতের ঘটনা ঘটে। এ সময় কমপক্ষে ৬টি বাড়ি ভাঙচুর হয়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, হামিরদী ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের মুনসুরাবাদ গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি পক্ষ রয়েছে। এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন মুনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা ও হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলমগীর মোল্লা (৪২) ও অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন একই গ্রামের বাসিন্দা ও হামিরদী ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য বাবর আলী মাতুব্বর (৫৫)। এ দুজনের বিরোধ বেশ কয়েক বছরের। গত চার বছরে ১৫ বারের অধিক দু’পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। গত ২৫ ডিসেম্বর দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান ইউপি সদস্য আলমগীর মোল্লাকে কুপিয়ে জখম করে সাবেক ইউপি সদস্য বাবর আলীর সমর্থকরা। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকাল ৮ টার দিকে দুই পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। কয়েক শত লোক ঢাল, সড়কি, রামদা, ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দিনব্যাপী দফায় দফায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩৫ জন আহত হয়। এদের মধ্যে ২২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকীরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছে।
গুরুতর আহত বর্তমান ইউপি সদস্যের সমর্থক সামাদ সিকদার (২৯) ও সাবেক ইউপি সদস্যের সমর্থক শিমুল মাতুব্বর (২৫) কে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে বর্তমান ইউপি সদস্য আলমগীর মোল্লার সমর্থক শেখ আলিমুর (৪২), নূর মোহাম্মদ শেখ (৩৭), শেখ মওদুদ (৩০), শেখ সাজ্জাদ (২২), সম্রাট শেখ (৩৮), ইকবাল ফকির (৩৮), মাহবুব মোল্লা (৪২), সামাদ সিকদার (২৯), রবিউল মিয়া (৪৫)। সাবেক ইউপি সদস্য বাবর আলী মাতুব্বরের পক্ষের উজ্জ্বল মিয়া (৩৫), টুটুল মিয়া (৩০), রুবেল মাতুব্বর (২৫),মিরাজ ফকির (২৯), শখ মাতুব্বর (২২), শিমুল মাতুব্বর (২৫), সাইদুল মিয়া (৩৮), সামাদ মাতুব্বর (২৪), বেলায়েত মাতুব্বর (২২), কালাম মাতুব্বর (২৫), জুয়েল ফকির (৩৪)।
অপরদিকে ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের সরইবাড়ি গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে খান বংশ ও তালুকদার বংশের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিলো। খান বংশের নেতৃত্ব দেন কবির খান ও তালুকদার বংশের নেতৃত্ব দেন বাবুল তালুকদার। এই দু’পক্ষের মধ্যে গত তিনমাসে তিনবার বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সকালে ও সন্ধ্যার পরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কয়কশত লোক ঢাল, সড়কি নিয়ে সংঘর্ষ হয়। এতে কমপক্ষে ১০জন আহত হয়। এদের মধ্যে ৪ জনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকীরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছে। সংঘর্ষে কমপক্ষে ৬ টি বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন আজ বুধবার (২ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে বলেন, উভয় স্থানেই আধিপত্যের বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সংঘর্ষ হয়েছে। দুই এলাকায়ই পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মামলা করতে বলা হয়েছে। মুনসুরাবাদ গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/জামশেদ