ভোলায় জমি-জমার বিরোধ নিষ্পত্তি করতে গিয়ে খুন হয়েছেন মো. জামাল হাওলাদার নামে এক বিএনপি নেতা। এসময় আরো ৬ জন আহত হয়। এঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেল ৫ টা থেকে ভোলা-ভেলুমিয়া সড়ক অবরোধ করে রাখেন স্থানীয়রা। পরে পুলিশের আশ্বাসে রাত ১০ টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
নিহত জামাল হাওলাদার ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুঞ্জপট্টি গ্রামের মো: মতলব হাওলাদারের ছেলে এবং তিনি ওই ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, ভেলুমিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুঞ্জপট্টি গ্রামের মো: ইব্রাহীম ও মো: আলম এর মধ্যে র্দীঘদিন ধরে জমি-জমার বিরোধ চলে আসছিল। মঙ্গলবার ( ২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উভয় পক্ষ ওই জমি দখল নিতে আসেন। এনিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। এক পর্যায়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জামাল হাওলাদার মিমাংসা করতে যান। এতে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এসময় জামাল হাওলাদরসহ বেশ কয়েকজনকে কুপিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত জামাল হাওলাদারকে উদ্ধার করে প্রথমে ভোলা সদর হাসপাতালে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থার জামাল হাওলাদার মারা যান।
জামাল হাওলাদারের মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ভোলা ভেলুমিয়া সড়কে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। পরে পুলিশের আশ্বাসে রাত ১০ টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। তবে এখনো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ পবিত্র ঈদ উপলক্ষে নেতাকর্মীদের জন্য বেশ কয়েকটি গরু দেওয়া হয়৷ ওই গরুর ভাগ না পাওয়া নিয়ে জামাল হাওলাদার প্রশ্ন তোলে এবং ইউনিয়ন সভাপতি ও সম্পাদককে দায়ী করেন। এ ঘটনার জের ধরে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সম্পাদক এর ইন্ধনে আওয়ামী লীগের লোক জামাল হাওলাদারকে হত্যা করেছে।
এদিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের আশ্বাস দেন ভোলা থানার ওসি আবু সাহাদাৎ হাসনাইন পারভেজ। পরে রাত ১০ টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল