দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত ফরিদপুরের ভাঙ্গা। ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সংযোগস্থল ভাঙ্গা। সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ভাঙ্গা। ভাঙ্গায় এবারের ঈদযাত্রা অনেকটা স্বস্তির। যানজট ছিল না। তবে লোকজন ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চলাচল ছিল অনেক বেশি।
ঈদকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার বিকালের পর থেকে বাড়িমুখো লোকের ভিড় ভাঙ্গায় বেড়ে যায়। রাজধানী ঢাকা থেকে অসংখ্য মানুষ লোকাল বাসে ভাঙ্গা এসে তারপর ভাঙ্গা থেকে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য পুনরায় বাসে ওঠে।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকেও ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে উত্তরবঙ্গগামী কয়েকশত লোক বাস কাউন্টারের সামনে বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কথা বলে জানা যায়, যাত্রীরা কুষ্টিয়া, নাটোর, রাজশাহী, নওগাঁ জেলা থেকে ফরিদপুর ও মাদারীপুর জেলায় এ মৌসুমে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতে এসেছিল। ঈদ উপলক্ষে সবাই বাড়ি ফিরছে। এই দিনমজুরদের ভিড় শুক্রবার (২৮ মার্চ) সকালেও দেখা যায়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ভাঙ্গায় মহাসড়কে রাজধানী থেকে মোটরসাইকেল যোগে অসংখ্য মানুষকে বাড়িমুখী হতে দেখা যায়। অনেক মোটরসাইকেলে স্বামী, স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে ছুটতে দেখা যায়। কোনো মোটরসাইকেলে একজন অথবা দুইজনও দেখা যায়।
ভাঙ্গা-ঢাকা এক্সপ্রেসওয়ের বগাইল টোল প্লাজায়ও কোনো জট দেখা যায়নি। তবে গাড়ির চাপ অনেক বেশি ছিলো। এছাড়া ট্রাকেও লোক যাতায়াত চোখে পড়েছে। এছাড়া মাদারীপুরের টেকেরহাট থেকে ফরিদপুরগামী লোকাল পরিবহনের ছাদেও লোক যাতায়াত দেখা গেছে। ব্যক্তিগত গাড়ি মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো।
এ ভাঙ্গা হয়েই পরিবহনে সরাসরি ও ভেঙে ভেঙে মানুষ বিভিন্ন যানবাহনে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট, নড়াইল, মাগুরা, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, ভোলা, বরিশাল, বরগুনা, মাদারীপুর ১৮ জেলার মানুষ ছুটে চলছে। এছাড়া দক্ষিণবঙ্গ থেকে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য জেলায় মানুষ যাতায়াত করছে।
ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের প্রায় ৩০ কিলোমিটার সড়ক ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও নগরকান্দা উপজেলার মধ্যে পড়েছে। ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পদ্মাসেতু থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার। এ এক্সপ্রেসওয়ে, এক্সপ্রেসওয়ের সাথের সার্ভিস সড়ক ও মহাসড়কে ঈদযাত্রায় গাড়ির চাপ অনেক গুণ বেড়ে গেছে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামান শুক্রবার বিকালে বলেন, ঈদযাত্রায় বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে মহাসড়কে গাড়ির চাপ ও মানুষের চাপ বেড়েছে। শুক্রবার এ চাপ আরও বেশি। কিন্তু কোথাও যানজট নেই। ভাঙ্গা এলাকায় যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন।
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত