বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের কলমতেজির টেপারবিলে আগুন পুরোপুরি নিভেছে। তবে সেখান থেকে এক কিলোমিটার দূরে গুলিশাখালী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ‘বাইশ ও তেইশের ছিলা’র মাঝামাঝি লাগা আগুন দুদিন ধরে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এখনও জ্বলছে। এমরই মধ্যে আগুন নেভাতে খুলনা ও বাগেরহাটের ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে পানির উৎস দূরে হওয়ায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও বনবিভাগকে।
জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে কাজ করতে হচ্ছে তাদের। আরও নতুন এলাকায় যাতে আগুন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ফায়ার লাইন কেটে দিয়েছে বনবিভাগ ও সুন্দরবন সুরক্ষাকর্মী। আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখতে বনবিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আগুন কখন নিয়ন্ত্রণে আসবে তাও বলতে পারছে না বনবিভাগ।
বাইশ ও তেইশের ছিলার মাঝামাঝি এলাকায় আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়-ক্ষতির হিসাব নিরূপণে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাসকে প্রধান করে তিন সদস্যের আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বনবিভাগ। এই নিয়ে সুন্দরবনের দুটি এলাকায় আগুনের লাগার ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি করল বনবিভাগ। এই কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, কলমতেজি ফরেস্ট ক্যাম্পের টেপারবিলে চার একর এলাকাজুড়ে লাগা আগুন তিনদিন পর সোমবার বিকালে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম জানান, গুলিশাখালী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ‘বাইশ ও তেইশের ছিলা’র মাঝামাঝি লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে সবাই মিলে প্রাণপণ দিয়ে চেষ্টা চলছে। এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। তবে বিভিন্ন স্থানে এখনও ধোঁয়ার কুণ্ডুলি পাকিয়ে জ্বলে উঠছে। কোথাও আগুন দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে নেভাতে চেষ্টা চলছে। এই মুহূর্তে পাম্প দিয়ে পানি দেওয়া যাচ্ছে না। ভাটায় নদীতে পানি একদম শুকিয়ে গেছে।
খুলনা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক (এডি) আবু বক্কর জামান জানান, রবিবার রাত ৯টার দিকে সুন্দবনের মরা ভোলা নদীতে পাম্প মেশিন বসানোর কাজ শেষ করে গুলিশাখালী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ‘বাইশ ও তেইশের ছিলা’র মাঝামাঝি লাগা আগুন নেভানোর কাজ শুরু করা হয়। এখানের আগুন নেভাতে খুলনা ও বাগেরহাটের ফায়ার সার্ভিসের দশটি ইউনিট একযোগে কাজ করছে। পানির উৎস তিন কিলোমিটার দূরে থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে। মরা বোলা নদীতে জোয়ারের সময় মাত্র ৪ ঘণ্টা পানি থাকায় ওই সময়ে পাম্প চালিয়ে আমদের কাজ করতে হচ্ছে। এই এলাকাটিতে সুন্দরী, বলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের আধিক্য থাকায় আগুন নেভাতে বেগ পেতে হচ্ছে। প্রায় এক কিলোমিটার বন এলাকাজুড়ে লাগা আগুন যাতে আরও ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য আগুনের স্থানের চারপাশে ফায়ার লাইন কেটে আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। গভীর রাত পর্যন্ত ফায়ার লাইনে পানি দেয়ার কাজ চলে। সোমবার সকালে জোয়ার শুরুর পর পাম্প চালিয়ে মাত্র ৮ ঘণ্টা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করা গেছে। আগুনে কুণ্ডুলি ও ধোঁয়া দেখতে পানি দেয়া হচ্ছে। আমাদের পাশাপাশি বনবিভাগও তাদের নিজস্ব পাম্প দিয়ে পানি ছিটাচ্ছে।
বন অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের বন সংরক্ষক (সিএফ) ইমরান আহমেদ জানান, গুলিশাখালী ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির ‘বাইশ ও তেইশের ছিলা’র মাঝামাঝি রবিরার সকালে লাগা আগুন এখনো থেমে থেমে জ্বলছে। রবিবার রাত থেকে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে বনবিভাগ ও ফায়ার সার্ভিস। পানির সংকট থাকায় বনের আগুন নেভানোর কাজে বেগ পেতে হচ্ছে। জোয়ারের পানির উপর নির্ভর করে এখানে আগুন নেভানোর কাজ করতে হচ্ছে। নদীর জোয়ারের পানি যতক্ষণ পাচ্ছে ততক্ষণ তারা পানি ছিটানো হচ্ছে। এখানে আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় কখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে তা এখনও বলা যাচ্ছে না। তবে নতুন এলাকায় যাতে আগুন না ছড়ায় সেজন্য ফায়ার লাইন কাটার কাজ শেষ করা হয়। আগুন এখন নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রয়েছে।
সুন্দরবনের কলমতেজি ফরেস্ট ক্যাম্পের টেপারবিলে লাগা আগুন এখন সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। দুটি আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়-ক্ষতির হিসাব নিরূপণে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) দিপন চন্দ্র দাসকে প্রধান করে তিন সদস্যের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত