ঈদকে সামনে রেখে সুন্দরবনে এখন শুরু হয়েছে হরিণ শিকারের মহোৎসব। বন বিভাগের ঢিলেঢালা নজরদারির ফাঁকফোকর দিয়ে চোরাশিকারিরা প্রতিদিনই ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড ম্যানগ্রোভ এই বনে ঢুকে দেদারছে শিকার করছে বাঘের খাদ্য হরিণ।
সুন্দরবন সংলগ্ন তিনটি এলাকায় রবিবার দিবাগত রাতভর অভিযান চালিয়ে ২০৫ কেজি হরিণের মাংসসহ এক চোরাশিকারিকে আটক করেছে মোংলা কোস্টগার্ড। মাত্র এক রাতেই সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রার দক্ষিণ খাসিটানা, শেকেবাড়িয়া নদী সংলগ্ন এলাকা, শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন বাজার ও মোংলার জয়মনিরগোল এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাশিকারি বাবু আলমকে (২৭) আটক ও ২০৫ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়।
আটক হরিণ শিকারি বাবু আলম সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসন্দিা। এই অভিযানে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. সোহাগ খানের জয়মনিরগোল এলাকায় বসতবাড়ী থেকে রাতে উদ্ধার করা হয়েছে ৬৬ কেজি হরিণের মাংসসহ হরিণের দুটি মাথা, চামড়া, শিং ও চারটি পা। মাত্র চার দিন আগে সুন্দরবন থেকে শিকার করা ২৫ কেজি হরিণের মাংসসহ পাঁচজন শিকারিকে শিবসা নদীতে থেকে আটক করে কোস্টগার্ড সদস্যরা। হরিণের মাংস ছাড়াও একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা থেকে হরিণ শিকারের জন্য ব্যবহৃত ৮০টি ফাঁদ জব্দ করা হয়।
মোংলা কোস্টগার্ড পশ্চমি জোনের অপারশেন কর্মকর্তা লে. কমান্ডার তারেক আহমেদ সোমবার বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এক রাতের অভিযানে সুন্দরবন থেকে শিকার করা ২০৫ কেজি হরিণের মাংস ছাড়াও ২টি হরিণের মাথা, ২টি হরিণের চামড়া ও ৮টি পা উদ্ধা করা হয়। অভিযানকালে হরিণ শিকারি বাবু আলম নামে মাত্র একজন চোরাশিকারিকে আটক করা গেছে। জব্দকৃত ২০৫ কেজি হরিণের মাংস, মাথা, চামড়া, পা এবং চোরাশিকারির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুন্দবন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল