সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনকে আদালত চত্বর থেকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় তাকে উদ্দেশ্য করে ডিম ও ইট পাটকেল নিক্ষেপ করার ঘটনা ঘটেছে। এসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাঁধা দিলে আদালত চত্বরের মূল ফটক বন্ধ কের দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা কর্মীরা। আজ সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া সন্ত্রাস দমন আইনে করা মামলায় জিঞ্জাসাবাদ শেষে তাকে আজ মেহেরপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বেগম শারমিন নাহারের আদালতে হাজির করা হয়। এসময় রাষ্ট্র পক্ষ পুনরায় পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে পুলিশ হেফাজতে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এ মামলায় অপর আসামিরা হলেন ফরহাদ হোসেনের ছোট ভাই ও জেলা যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক সরফরাজ হোসেন মৃদুল, ভগ্নিপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুস সামাদ বাবলু বিশ্বাস। এই দুই আসামিকেও আদলত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।
রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, মারুফ আহম্মেদ বিজন এবং মোখলেছুর রহমান স্বপন। আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট একেএম শফিকুল আলম, মিয়াজান আলী, আব্দুস সালাম এবং ইয়ারুল ইসলাম।
এ দিকে রিমান্ড শুনানির সময় আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং বিএনপি নেতাকর্মীরা। তারা আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে দৃষ্টান্তম‚লক শাস্তির দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট মেহেরপুর সদর উপজেলার দরবেশপুর গ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওপর হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন রাশেদুল ইসলাম। মামলার প্রধান আসামি হিসেবে ফরহাদ হোসেনকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে গত ২৯ জানুয়ারি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মেহেরপুরে আনা হয়। এরপর ৩০ জানুয়ারি কঠোর গোপনীয়তায় তাকে আদালতে হাজির করলে আদালত জেল গেটে দুদিনের জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়ে ছিলেন।
এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটন এলাকা থেকে র্যাবের হাতে তিনি গ্রেফতার হন। তার বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকাসহ মেহেরপুরে একাধিক হত্যা ও অন্যান্য মামলা রয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/নাজমুল