চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদের ঢেবার পাড়ে নাগরিকদের সুস্থ বিনোদনের সুযোগ গড়তে ওয়াকওয়েসহ উন্মুক্ত স্থান করার মাধ্যমে ঢেবাটিকে দখলদারদের হাত থেকে বাঁচাতে চায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)।
মঙ্গলবার দুপুরে চসিক কার্যালয়ে নগরীর বিভিন্ন সেবা সংস্থার সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ কথা জানান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল করিম, বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস. এম. মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তগীন, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলামসহ সেবা সংস্থা সমুহের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাবৃন্দ।
সভায় অস্ট্রেলিয়ায় ড্রেনেজ এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত ড. আবদুল্লাহ আল মামুন এবং পরিবেশকর্মী শাহরিয়ার খালেদ নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে প্রাধিকার ভিত্তিতে জরুরি করণীয় বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
সভায় চসিক মেয়র বলেন, আগ্রাবাদ ঢেবা হতে পারে নাগরিকদের চিত্ত-বিনোদনের স্থান। নগরীতে মানুষ একটু স্বস্তির নিশ্বাস ফেলবে এমন উন্মুক্ত স্থান কম। ঢেবার পাড়টিকে যদি আমরা সৌন্দর্যবর্ধন করে ওয়াকওয়ে আর বসার স্থান করে দিতে পারি তাহলে মানুষ সেখানে হাঁটতে পারবে, অবসরে সময় কাটাতে পারবে। এখন যেহেতু সংস্থাগুলোর মধ্যে আগের মত দ্বন্দ্ব নেই, সবাই আমাকে সহযোগিতা করছেন সেহেতু এ সুযোগে নাগরিকদের জন্য আমি আগ্রাবাদ ঢেবার পাড়ে ওয়াকওয়ে করার মাধ্যমে ঢেবাটিকে আমি রক্ষা করতে চাই। অন্যথায় একদিন এই ঢেবাটি দখলদারদের করালগ্রাসে হারিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ঢেবার ভূমির মালিকানার বিষয়ে বন্দর-রেলওয়ের মধ্যে মতভিন্নতা আছে। আমি চিরকাল মেয়র থাকব না। আপনারাও যারা বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বে আছেন তারাও আজীবন সংস্থার দায়িত্বে থাকবেন না। তাই, আমাদের নাগরিকদের প্রয়োজনে উদার হতে হবে। আসুন আমরা সবগুলো সংস্থা মিলে অবহেলিত এ জায়গাটিতে নাগরিকদের সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করে দেই।
মেয়রের প্রস্তাবে সায় দিয়ে উপস্থিত বিভিন্ন সেবা সংস্থার শীর্ষ কর্তাবৃন্দ আগামী সপ্তাহে ঢেবার পাড় এলাকা পরিদর্শন করে সবগুলো সংস্থা সম্মিলিতভাবে সেখানে সৌন্দর্যবর্ধনের সম্ভাবতা যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেন।
ড. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসণে অনেকগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। তবে, প্রকল্পগুলো ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি না প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পর সঠিকভাবে পরিচালনা ও মেইনটেনেন্সে জোর দেয়া না হয়। বিশেষ করে জলাবদ্ধতা নিরসনে বৃষ্টি ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ডাটাভিত্তিক সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়া চালু করতে হবে। চসিকের উচিত এজন্য একটি স্বতন্ত্র আইটি সেল করা, যাদের কাজ থাকবে বিভিন্ন সংস্থা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এগুলো নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত অনলাইন প্লাটফর্ম পরিচালনা করা। এ প্লাটফর্ম থেকে যে কেউ বাড়ি করার আগে আগামী ১০০ বছরে অত্র এলাকার জলসীমা সম্পর্কে জানতে পারবে। শুধু প্রকল্প না করে অটোমেশন এবং প্রকল্প সচল রাখতে দক্ষ জনবল গড়ার বিষয়েও মনোযোগ দিতে হবে। এ বিষয়ে অন্যান্য সংস্থাগুলোর সঙ্গে চসিককে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, নগরীর স্লুইসগেটগুলো নিয়মিত মনিটরিং করা প্রয়োজন। খাল খননের পাশাপাশি নদীতে জলপ্রবাহ ঠিক রাখতে সিলট্র্যাপ নির্মাণ প্রয়োজন। ভাসমান ডেব্রিস কালেক্টর ব্যবহার করে স্রোতে ভাসমান পলিথিন-প্লাস্টিক যদি আটকে ফেলা যায়, তাহলে জলস্রোত ঠিক থাকবে, যা জলাবদ্ধতা কমাবে। আগামী বর্ষা আসার আগেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে খনন করলে জলাবদ্ধতার সমস্যা কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে।
বিডি-প্রতিদিন/বাজিত