চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো হয়, অথচ বাংলাদেশে ঠিক উল্টোটা ঘটে। রমজান এলেই দাম বেড়ে যায়, যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
বুধবার দুপুরে চসিকের রাজস্ব বিভাগের উদ্যোগে আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত যৌথ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সরোয়ার কামালসহ চসিক, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, ক্যাবসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি ও সেবা সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ।
যৌথ সভায় বিভিন্ন প্রতিনিধি আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি পেশ করেন। এর মধ্যে আছে সড়কে অবৈধভাবে বসা হকারদের উচ্ছেদ করা, পণ্যের সঠিক মূল্য তালিকা প্রদর্শন এবং মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা, যাতে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে কোনো অনিয়ম না হয়, পণ্যের সাপ্লাই চেইন সঠিকভাবে পরিচালনা করা, যাতে প্রয়োজনীয় পণ্য সময়মতো বাজারে আসে এবং পণ্যের অভাব বা সংকট না ঘটে, আমদানি পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ, যাতে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়ানো না হয়, রমজান মাসে ট্রাফিক জ্যাম কমানোর জন্য কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ, যাতে বাজারের দিকে যাতায়াতে সমস্যা না হয়, পণ্যের ওজন সঠিকভাবে দেওয়া নিশ্চিত করা, যাতে ক্রেতারা ন্যায্য পরিমাণ পণ্য পায়।
মেয়র বলেন, এটি সংযমের মাস। যদি আমরা এই মাসেও নৈতিক চরিত্র ঠিক রাখতে না পারি, তবে আর কোনো সুযোগ নেই। ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয় ন্যায্য ব্যবসা ও সততার পথ অনুসরণ করতে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মুনাফার লোভে সাধারণ মানুষের কষ্ট বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা একেবারেই অনৈতিক।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে যেভাবে প্রতিদিন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যাচ্ছি, সেভাবে রমজানের প্রথম দিন থেকেই বাজারে যাব। আমার সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। যদি কেউ ওজনে কম দেয় বা পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বাড়িয়ে দেয়, তাকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। এই অভিযান শুধু একদিনের জন্য নয়, পুরো রমজান মাস জুড়েই চলবে।
মেয়র বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত করার জন্য আমরা স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম চালু করছি। অনেক এলাকায় গাড়িগুলো যথাযথ জায়গায় দাঁড়ায় না, ফলে যানজট তৈরি হয়। আমরা নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি। নিউ মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় যানজট বেশি হচ্ছে। এখানে যতবারই অবৈধ পার্কিং বা ফুটপাত দখল উচ্ছেদ করা হয়, কিছুদিন পর আবার একই অবস্থা ফিরে আসে। এ জন্য মার্কেট কমিটি, প্রতিটি থানা ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।
বিডি প্রতিদিন/এমআই