‘ড্রাইনেস’ আর ‘ডিহাইড্রেশন’, দুটি কিন্তু এক নয়। প্রথমটি হলো- ত্বকের একরকম অবস্থা, যেখানে ত্বকে তেলের উৎপাদন কমে যায়। ঠান্ডা বা কম আর্দ্রতাযুক্ত আবহাওয়া, বার্ধক্য এবং কিছু কিছু চিকিৎসাজনিত কারণে এরকম হতে পারে। অন্যদিকে ডিহাইড্রেশনের ব্যাপারটি সম্পূর্ণ আলাদা। সাধারণভাবে ডিহাইড্রেশন মানে শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানির অভাব। ত্বকও একইভাবে ডিহাইড্রেটেড হয়। বেশি ঘাম হলে, সারা দিন চড়া মেকআপে থাকতে হলে দিনের বেলায় সূর্য মাথায় নিয়ে কাজ করতে হলে... ইত্যাদি। অতিরিক্ত ‘স্ক্রিন টাইম’ও কিন্তু এর একটি কারণ। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- এয়ার কন্ডিশন (এসি) ব্যবহার। এটিও ডিহাইড্রেশনের জন্য দায়ী।
সাধারণত পানি, ফলের জুস, পানির ভাগ বেশি এরকম ফল খাওয়ার মাধ্যমে ত্বককে হাইড্রেট রাখা যায়। এ প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন, অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই দিনে ৩-৪ লিটার পানি পানের কথা বলেন। তা সম্পূর্ণ ঠিক নয়। পানির চাহিদা অনেকাংশ নির্ভর করে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের ওপর। এবার আসা যাক, বাহ্যিকভাবে কীভাবে ত্বককে আমরা হাইড্রেটেড রাখতে পারি সেই দিকে...
♦ টোনার বা ফেস মিস্ট ত্বকের পিএইচ-এর ভারসাম্য বজায় রাখার জন্যও কার্যকর। পরিবেশগত কারণেই হোক বা জীবনযাপনের ধরনে পরিবর্তন, ত্বকে তেলের উপস্থিতি আগের চেয়ে কমেছে। তাই টোনারগুলো বেশির ভাগই ফেস মিস্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যার মূল কাজ স্কিনকে হাইড্রেটেড রাখা। এতে ব্যবহৃত ফ্লুয়িডটি ফ্লোরাল অ্যাকটিভ হতে পারে, হতে পারে ফ্রুট অ্যাকটিভও। উপস্থিত থাকে নানা অ্যাকটিভস, মিনারেলস ইত্যাদি।
♦ ত্বক হাইড্রেটেড রাখতে হাইড্রেটিং সেরাম দারুণ কার্যকর। এর হায়ালুরনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিনের মতো উপাদান ত্বকের উপরিভাগে পানির মাত্রা বজায় রাখে। টোনারের পর অবশ্যই সেরাম ব্যবহার করুন সেরাম।
♦ আজকের দিনে ত্বকের উজ্জ্বলতার অন্যতম মূল উপাদান হলো- অ্যাকটিভস। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘ভিটামিন এ’ বা রেটিনল। এটি একদিকে যেমন ব্রণ, অ্যাকনে নির্মূলে সাহায্য করে, ট্যানিং, পিগমেন্টেশনে দূর করে, অন্যদিকে তেমনি ত্বককে হাইড্রেটও করে।
♦ কার ত্বকে কোন ধরনের ময়েশ্চারাইজার উপযুক্ত তা নির্ভর করে বয়স, ত্বকের প্রকৃতির ওপর। তবে ময়েশ্চারাইজারে ইউরিয়া, লিপিড, সেরামাইডস, হায়ালুরনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন উপাদান আছে কি না দেখে নেওয়া ভালো।
♦ অনেকেই ভাবেন স্কিন কেয়ার, প্রোডাক্ট তেলতেলে না হলে হাইড্রেশন হবে না। এটি ভ্রান্ত ধারণা। লং আওয়ার্স হাইড্রেশন জেলও ত্বকের জন্য ভালো। এটি আপনার ত্বকের খুব গভীরভাবে পেনিট্রেটেড হয়।