শীত মৌসুমের ঠান্ডা আবহাওয়া প্রায়শই টাইপ-৪ বা সুস্থ (টেক্সচার্ড) চুলকে করে তোলে শুষ্ক, ভঙ্গুর এবং জট পাকানো প্রবণ। আর আর্দ্রতার মাত্রা কমে গেলে, টেক্সচার্ড চুলের কিউটিকল ওঠে যায় এবং আর্দ্রতা হারাতে থাকে।
শীতকালে কেন চুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
শীতকালের ঠান্ডা বাতাসে আর্দ্রতার অভাব থাকে, যা চুলের কিউটিকল খুলে দেয়। ফলে চুলের আর্দ্রতা হারিয়ে যায়, চুল আরও শুকিয়ে যায় এবং ভঙ্গুর হয়ে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এ ছাড়া বাড়ির ভিতরের হিটার এবং ব্লোয়ারের ব্যবহার চুলকে শুষ্ক করে তোলে। এমনকি আপনি যখন ঘরে প্রবেশ করেন, শুষ্ক এবং উষ্ণ বাতাস চুলের আর্দ্রতা আরও কমিয়ে দেয়, যার ফলে চুল নিস্তেজ এবং দুর্বল হয়ে পড়ে। আমাদের চুল সাধারণত প্রাকৃতিকভাবেই ভঙ্গুর এবং দুর্বল। শীতকালে সঠিক যত্নের অভাব এই সমস্যাগুলো আরও বাড়িয়ে তোলে।
হেয়ার মাস্ক : আর্দ্রতার সেরা অস্ত্র
হেয়ার মাস্ক হলো বিশেষ চুলের ট্রিটমেন্ট যা আর্দ্রতাযুক্ত তেল, বাটার, ভিটামিন এবং অন্যান্য পুষ্টিকর উপাদানে পূর্ণ। এগুলো চুলের কিউটিকলের প্রতিটি অংশে গভীরভাবে প্রবেশ করে। সাধারণ কন্ডিশনারের চেয়ে হেয়ার মাস্ক অনেক বেশি কার্যকর। সাধারণত কন্ডিশনার ৫-১০ মিনিটের জন্য চুলে রাখা হয় কিন্তু হেয়ার মাস্ক ২০-৩০ মিনিট চুলে রেখে ব্যবহার করা হয় আর্দ্রতার বিশেষ উৎস হিসেবে। শীতকালে সাধারণত চুল খুবই শুষ্ক হয়ে যায়, ডার্মাটোলজিস্টরা তখন হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। সপ্তাহে অন্তত একবার হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করা ভালো।
শীতল তাপমাত্রার পাশাপাশি, উলের টুপি, স্কার্ফ ও কোটের মতো শীতকালীন পোশাকও অনেক ক্ষেত্রে চুলকে শুষ্ক ও রুক্ষ করে তোলে
এমন দিনে হেয়ার মাস্ক, ডিপ কন্ডিশনার এবং প্রোটেকটিভ হেয়ার স্টাইলও আপনার টেক্সচার্ড চুলকে সুস্থ রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি
শীতকালে চুলের যত্নে সেরা হেয়ার মাস্ক
শীতকালে শিয়া বাটার এবং ব্ল্যাক ক্যাস্টর অয়েল হেয়ার মাস্ক চুলের সুস্থতায় ভীষণ উপকারী। এই মাস্ক শুষ্ক এবং ক্ষতিগ্রস্ত চুলকে ‘মজবুত এবং পুনরুদ্ধার’ করতে সাহায্য করে। এর মূল দুটি উপাদান হলো শিয়া বাটার এবং ব্ল্যাক ক্যাস্টর অয়েল। শিয়া বাটার ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘ই’ সমৃদ্ধ। ভিটামিন ‘এ’ চুলের কোষের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে, আর ভিটামিন ‘ই’ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, যা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি এবং চুলপড়া প্রতিরোধে সহায়ক।
♦ বারবার শ্যাম্পু করলে স্ক্যাল্প এবং চুল থেকে প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে যায়। তাই শীতকালে সপ্তাহে দুবার চুলে শ্যাম্পু করুন। এর বেশি নয়। তবে, যদি স্ক্যাল্প তৈলাক্ত এবং চুল শুষ্ক হয়, তাহলে সপ্তাহে তিনবার স্ক্যাল্প ধুয়ে নিতে পারেন। শ্যাম্পু প্রয়োগের প্রয়োজন নেই। কন্ডিশনার দিয়ে ধুয়ে (কো-ওয়াশিং) নিন।
♦ ড্রাই শ্যাম্পু শীতকালে চুলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই শ্যাম্পু ব্যবহার করলে ড্রাই শ্যাম্পুই ব্যবহার করুন।
♦ শীতকালে গরম পানিতে গোসল আরামদায়ক হলেও এটি স্ক্যাল্প থেকে প্রাকৃতিক তেল সরিয়ে ধুয়ে দেয়। তাই হালকা ঠান্ডা পানি (কুসুম গরম) দিয়ে গোসল করার চেষ্টা করুন।
♦ চুলে আর্দ্রতা যোগ করতে- গ্লিসারিন, অ্যালোভেরা, শিয়া বাটার, জোজোবা অয়েল এবং অ্যাভোকাডো অয়েল ব্যবহার করুন। এগুলি চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং শুষ্কতা রোধ করে চুলে ভিতর থেকে পুষ্টি জোগায়।
♦ এসেনশিয়াল অরগান অয়েল বা শিয়া বাটারযুক্ত মাস্ক চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং শীতের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।
♦ সপ্তাহে একবার ডিপ কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। ডিপ কন্ডিশনার চুলে আর্দ্রতা যোগ করে এবং ভাঙন ও ক্ষতি কমায়। নারকেল, অলিভ, আরগান, আমন্ড এবং জোজোবা তেল দিয়ে তেল-ম্যাসাজ করুন। তবে যদি খুশকি থাকে, তাহলে ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
♦ ব্লো ড্রাইং চুল আরও শুষ্ক করে তোলে। এর পরিবর্তে মাইক্রোফাইবার তোয়ালে দিয়ে চুল মুছুন এবং আস্তে আস্তে পানি শুষে নিন।
♦ শীতে আঁটসাঁট টুপি চুল এবং স্ক্যাল্পের শ্বাস-প্রশ্বাসকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই ঢিলেঢালা টুপি কিংবা সিল্ক স্কার্ফ ব্যবহার করুন।
♦ ঘরের শুষ্ক বাতাস চুলের আর্দ্রতা শুষে নিতে পারে। একটি হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করুন এবং ঘরের আর্দ্রতা ৩০-৫০ শতাংশ রাখুন।
♦ অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলুন। প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় শাকসবজি, ডিম, মাছ, বাদাম এবং দানাশস্য রাখুন। আর শীতকালেও অবশ্যই যথেষ্ট পরিমাণ পানি পান করুন।
♦ শীতকালে চেষ্টা করুন সব ধরনের কেমিক্যাল পণ্য এড়িয়ে চলার। পাশাপাশি চুলের রং করা, স্টাইলিং বা পার্মিং এড়িয়ে চলুন।
♦ ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে চুল আঁচড়ানো এড়িয়ে চলুন। নিচ থেকে চুল আঁচড়ানো শুরু করুন।
♦ প্রতি ছয় সপ্তাহে একবার চুলের আগা ট্রিম করিয়ে নিতে পারেন।
তথ্যসূত্র : স্টাইলক্রেজ