দিনে দুই থেকে তিনবার মশক নিধনে স্প্রে ছিটানো হয়, মশক নিধন কার্যক্রমে গতি আনতে নতুন করে ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন সংগ্রহ করা হচ্ছে। মশকনিধনে অবহেলায় শাস্তির আওতায় আনা এবং কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে যৌক্তিক কারণ ছাড়া সাত দিন অনুপস্থিত থাকলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের ঘোষণাসহ মশকনিধনে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে সুফল মিলছে না বলে অভিযোগ নগরবাসীর। রাতে তো বটেই, এখন দিনেও মশার অত্যাচারে অতিষ্ঠ নগরবাসী। ফলে নামেই চলছে মশকনিধন কর্মসূচি।
এখন নগরে কিউলেক্স মশার উপদ্রব। এই কিউলেক্স মশা জন্মায় শুষ্ক মৌসুমে। ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এর প্রকোপ বেশি থাকে। কিউলেক্স মশা জন্মায় দূষিত পানিতে। বর্তমানে নগরের সিংহ ভাগ খাল-নালা-নর্দমাই বর্জ্যরে ভাগাড়। মার্চ-এপ্রিলে তাপমাত্রা বাড়লেও কিউলেক্স মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পায়। নগরের অধিকাংশ নালা-নর্দমা ও খাল বর্জ্যরে ভাগাড়। তা ছাড়া, নগরের সেকেন্ডারি ড্রেনগুলোও আবর্জনার ক্ষেত্র। অনেক খাল-নালা ভরাট থাকায় স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ। এসব জায়গাই কিউলেক্স মশা উৎপাদনের উর্বর স্থান। যা কিউলেক্স মশার লার্ভা বিস্তারে ভূমিকা রাখছে। চসিক এসব খাল-নালা-নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার করার কথা থাকলেও তা করে না। গত কিছু দিন ধরে চসিকের মশক নিধন কার্যক্রমও চলছে ধীরগতিতে। ফলে এসব স্থানে দেদার উৎপাদন হচ্ছে কিউলেক্স মশা।
চসিকের ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম মাহি বলেন, মশকনিধনে নিয়মিত দুই-তিন বার করে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এখন পর্যাপ্ত ওষুধও মজুত আছে। আশা করি, কিছুদিনের মধ্যেই মশা নিয়ন্ত্রণে আসবে। এখন মশকনিধন কার্যক্রমে যুক্ত কাউকে ছুটিও দেওয়া হচ্ছে না। চসিকের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা বলেন, প্রতিদিন প্রতিটি ওয়ার্ডে রুটিন করেই পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। এরপরও অনেক জায়গায় ও নালা-নর্দমায় ময়লা জমে থাকে। মানুষ সচেতন নয় বলে যত্রতত্র ময়লা। বাসার কাছের নালায় ফেলা হয় পলিথিনসহ সব ধরনের বর্জ্য। ফলে পানি চলাচল ব্যাহত হয়।