নতুন সাজে ফিরছে ঐতিহ্যের কুমিল্লা বীরচন্দ্র নগর মিলনায়তন ও গণ পাঠাগার। যা টাউন হল নামে পরিচিত। নগরীর প্রাণকেন্দ্র্রে অবস্থিত এই প্রাচীন মাঠ ও স্থাপনা দীর্ঘ সময় জরাজীর্ণ ছিল। সেই টাউন হল কবে আবার সরগরম হয়ে উঠবে সেই প্রশ্ন নগরবাসীর।
গত ৫ আগস্ট কিছু লোক টাউন হলে ভাঙচুর করে। বইপত্র লুট ও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। টাউন হল ছিল মূলত বইয়ের কারাগার। সাবেক এমপি বাহাউদ্দিন বাহারের বলয়ের ছাড়া কাউকে এখানে সদস্য করা হতো না। বই পড়ার সুযোগ পেত না।
এখানে ১০০ বছর আগের বই আছে পাঁচ হাজারের বেশি। এনসাইক্লোপিডিয়া অব ব্রিটেনিকার প্রথম সংখ্যা থেকে প্রায় সব সংখ্যাই ছিল। এখানে মহাকবি ফেরদৌসি রচিত শাহানামার প্রথম সংস্করণের কপি আছে। আধি রাজমালার প্রথম সংস্করণেরও কপি আছে। অনেক পুথি আছে। এগুলো সমগ্র দেশের অমূল্য সম্পদ। বইগুলো খোয়া গেছে। বইগুলো ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
সাংস্কৃতিক সংগঠক জহিরুল হক দুলাল বলেন, আমিও ঐতিহ্যের পক্ষে। তবে দিন দিন মানুষ বাড়ছে। তবে জমি বাড়ছে না। আগের আয়তনের পাঠাগার ও মিলনায়তন সময়ের চাহিদা মেটাতে পারবে না। তাই প্রয়োজনে সংস্কার করতে গিয়ে যদি আগের ডিজাইনের কোনো হেরফের হয় তাকে আমি নেতিবাচক বলব না। সংস্কারের উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই।
আলোকিত বজ্রপুর সংগঠনের সংগঠক রফিকুল ইসলাম সোহেল ও ঐতিহ্য কুমিল্লার পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল বলেন, কুমিল্লা টাউন হল আবার তার পূর্বের রূপে ঘুরে দাঁড়াক। এর পাঠাগার ও পত্রিকা কর্নার আবারও পাঠকের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠুক। ইতিহাস গবেষক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক বলেন, আমরা চাই টাউন হল স্বরূপে ফিরে আসুক। এর সংস্কার হোক পূর্বের অবয়ব ঠিক রেখে। এর পাঠাগারে বই নেই। নগরীর অনেক পরিবারে প্রাচীন বই রয়েছে। সেগুলো সংগ্রহ করে পাঠাগার সমৃদ্ধ করা যায়।
জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়ছার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, একটি আদর্শ সিটি সেন্টার হিসেবে টাউন হলকে গড়ে তুলতে চাই। বিভিন্ন সময়ে সংস্কারের কারণে টাউন হল ভবনটির প্রথম দিকের ঐতিহ্য কিছুটা বিলুপ্ত হয়েছে, তা ফিরিয়ে আনতে স্থাপত্য পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বীরচন্দ্র গণ পাঠাগারের উন্নয়নে জেলা পরিষদ থেকে সোয়া ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে ওয়াকওয়ে ও সবুজায়ন করা হবে। টেন্ডার ইভালুয়েশন হয়েছে। আশা করছি দ্রুত কাজ শুরু করতে পারব।
উল্লেখ্য, ১৮৮৫ সালে ত্রিপুরার রাজা বীরচন্দ্র মানিক্য বাহাদুর বীরচন্দ্র গণ পাঠাগার ও নগর মিলনায়তন প্রতিষ্ঠা করেন। এটি কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়ে ১০ বিঘা জমিতে অবস্থিত।