দুই হার এবং এক পরিত্যক্ত ম্যাচ। চলমান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশের ফল। দুবাইয়ে ভারতের কাছে ৬ উইকেট এবং রাওয়ালপিন্ডিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৫ উইকেটে হার ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়। তিন ম্যাচে প্রাপ্তি এক পয়েন্ট। শিরোপা স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিয়ে গতকাল রাতে ঢাকায় ফিরেছেন নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে টাইগাররা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ পরিত্যক্ত; সাদা চোখে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নাজমুলদের এটাই প্রাপ্তি। সত্যিকার অর্থে আসরে নাজমুল বাহিনীর এটা সর্বোচ্চ প্রাপ্তি।
ঢাকা ছাড়ার আগে ক্রিকেটপ্রেমী জাতিকে শিরোপা জয়ে স্বপ্ন দেখতে বলেছিলেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল। বিপিএল খেলে প্রস্তুতিতে স্বস্তিও প্রকাশ করেছিলেন নাজমুল। টাইগার হেড কোচ ফিল সিমন্স অবশ্য প্রস্তুতির ঘাটতির কথা বলেছিলেন। সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন পাকিস্তান ম্যাচের আগের দিন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রস্তুতির পাশাপাশি পরিকল্পনায়ও অভাব ছিল। টিম ম্যানেজমেন্টের চিন্তা-ভাবনায় এমন বিভাজন যখন, তখন একটি দল তার টার্গেটে পৌঁছাবে কীভাবে?
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নাজমুলদের মিশনকাল মাত্র আট দিন। ২০ ফেব্রুয়ারি ভারত ম্যাচ দিয়ে নাজমুলদের টুর্নামেন্ট শুরু। শেষ ২৭ ফেব্রুয়ারি। মাঝে ২৪ ফেব্রুয়ারি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছে। তিন ম্যাচের একটি খেলেছে দুবাইয়ে। বাকি দুটি রাওয়ালপিন্ডিতে। টুর্নামেন্টে দলগুলো যখন অনায়াসে ৩০০, ৩৫০ রান করছে। তখন নাজমুল বাহিনী দুই ম্যাচে ২২৮ ও ২৩৬ রানের বেশি করতে পারেনি। এই স্কোর নিয়ে লড়াইয়ের তৃপ্তি খুঁজে পেয়েছেন টাইগার অধিনায়ক নাজমুল। তিনি বলেন, ‘যেভাবে দুটি ম্যাচে দীর্ঘ সময় লড়াই করেছি, অবশ্যই আমাদের জন্য সেটা অনুপ্রেরণাদায়ক। আমাদের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিতে হবে। ভবিষ্যতে আমরা সঠিক পরিকল্পনা করব এবং তা কার্যকর করার চেষ্টা করব।’ কতটা অনুপ্রেরণাদায়ক? আসরে দুটি ম্যাচ খেলেছেন নাজমুলরা। দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি রয়েছে একটি ও হাফ সেঞ্চুরি দুটি। ভারত ম্যাচে ৩৫ রানে ৫ উইকেটের পতনের পর জুটি বাঁধেন তাওহিদ হৃদয় ও জাকের আলি অনীক। দুজনে ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১৫৪ রান যোগ করেন। যা চাম্পিয়নস ট্রফির রেকর্ড। দুবাইয়ের ভারত ম্যাচে হৃদয় ১০০ রানের একটি প্রত্যয়ী ইনিংস খেলেন। জাকের আলি খেলেন ৬৮ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় ম্যাচে একাদশ পরিবর্তন করে খেলতে নামে নাজমুল বাহিনী। ওপেনিংয়ে ব্যাটিং করেন অধিনায়ক নাজমুল। তানজিদ তামিমের সঙ্গে যোগ করেন ৪৫ রান। সমালোচকদের সমালোচনার জবাব দিয়ে ৭৭ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন। আগের ম্যাচে টপ অর্ডার ব্যর্থ হয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যর্থ হয় মিডল অর্ডার। প্রথম ম্যাচে ১৫৪ রানের কার্যকরী একটি জুটি ছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে ৪৫ রানের জুটি হয় দুটি। নাজমুলের সঙ্গে রান করেন জাকের। খেলেন ৪৫ রানের ইনিংস।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দলগত প্রাপ্তি নেই নাজমুল বাহিনীর। ব্যক্তিগত প্রাপ্তিও তেমন একটি নেই। সর্বোচ্চ প্রাপ্তি একটি সেঞ্চুরি ও দুটি হাফ সেঞ্চুরি। তাওহিদ হৃদয় ভারতের বিপক্ষে চরম ক্রান্তিকালে সেঞ্চুরি করেন। খেলেন ১১৪ বলে ১০০ রানের সেঞ্চুরি। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এটা বাংলাদেশের পঞ্চম সেঞ্চুরি। এর আগে শাহরিয়ার নাফিস, তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ সেঞ্চুরি করেছিলেন। হৃদয় দলের দায়িত্ব নেন ৩৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল। সেঞ্চুরির শেষ ৯ রান করেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। ব্যক্তিগত ৯১ রানের সময় পায়ের টান পড়েছিল হৃদয়ের। জাকের টানা দুই ম্যাচে রান করেছেন। আসরে টাইগারদের পক্ষে সর্বোচ্চ ১১৩ রান করেছেন তিনি। ১০৭ রান করেছেন হৃদয়। অধিনায়ক নাজমুল ৭৭, তানজিদ ৪৯, রিশাদ হোসেন ৪৪, মেহেদি হাসান মিরাজ ১৮, মাহমুদুল্লাহ ৪, মুশফিক ২ রান করেন। বোলিংয়ে লেগ স্পিনার রিশাদ ৩ উইকেট এবং ২টি করে উইকেট নেন দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান।
আসরে বাংলাদেশের প্রাপ্তি এক সেঞ্চুরি ও ২টি হাফ সেঞ্চুরি। ভারত ম্যাচে ২২৮ রান করলেও ডট বল দিয়েছে ১৫৯টি। মূল ম্যাচের ৩০০ বলের অর্ধেকেরও বেশি ডট দিয়েছেন টাইগার ব্যাটাররা। বাউন্ডারি ছিল ১৬টি এবং ওভার বাউন্ডারি ৪টি। নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ৩০০ বলের ডট ১৮১টি। বাউন্ডারি ১৬টি এবং ওভার বাউন্ডারি ৫টি। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ডট দিয়েছে ২০১০ সালে ডানেডিনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৩টি। ২০১০ সালের পর ১৫টি ম্যাচে ন্যূনতম ১৭৪টি ডট দিয়েছে ১৫ ম্যাচে।