পরিচিত ভেন্যু দুবাই। মরুশহরে এই প্রথম খেলছে না, টাইগাররা এর আগেও ওয়ানডে ও টি-২০ খেলেছে। মরুর কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে নাজমুল, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহদের। পরিচিত দুবাইয়ে আজ বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি মিশন শুরু হচ্ছে। প্রতিপক্ষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দুবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। দলটিতে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাদের মতো বিশ্বখ্যাত তারকা ক্রিকেটার রয়েছেন। টাইগার অধিনায়ক নাজুমল হোসেন শান্ত প্রতিপক্ষ দলের তারকা ক্রিকেটারদের নিয়ে মোটেই চিন্তিত নন। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মিডিয়ার মুখোমুখিতে বরং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শিরোপা জিততেই এসেছেন। গত দুই মাস কোনো ওয়ানডে ম্যাচ না খেললেও আত্মবিশ্বাসী নিজ দলের ওপর। গতকাল অনুশীলনের আগে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দলের অলরাউন্ডার ও গতিশীল পেসাররা যদি পারফরম্যান্স করতে পারেন, তাহলে ভারতের বিপক্ষে জিতবে। তিনি বলেন, ‘ভারতকে হারাতে গেলে সব বিভাগকে ভালো খেলতে হবে। ভারতের বিপক্ষে আমাদের বেশ কিছু ভালো স্মৃতি রয়েছে। যদি আমরা নিজেদের পরিকল্পনাগুলো কাজে লাগাতে পারি, তাহলে জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।’ দুই প্রতিবেশীর লড়াইয়ের আড়ালে মূল লড়াইটা হবে টাইগার পেসারদের গতির সঙ্গে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের।
নাজমুল বাহিনীর স্কোয়াডের মাত্র ছয় ক্রিকেটারের রয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার অভিজ্ঞতা। অধিনায়ক নাজমুল শান্তসহ ৯ ক্রিকেটার প্রথমবার খেলছেন মিনি বিশ্বকাপে। স্কোয়াডের চার পেসার নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও তানজিম হাসান সাকিব- সবাই ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটারেরও বেশি গতিতে বোলিং করেন। ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট টাইগার স্পিড অ্যাকাউন্ট নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত। নাজমুল বাহিনীর পেস বিভাগ শুধু প্রতিপক্ষের ভীতির কারণ নয়, দলে অলরাউন্ডারদের সংখ্যাও অনেক। সহ অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ রয়েছেন দারুণ ছন্দে। অফ স্পিনের পাশাপাশি দারুণ ব্যাটিং করেন। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন লেট অর্ডারে আক্রমণাত্মক মেজাজে ব্যাট চালান। তানজিম সাকিবও প্রয়োজনীয় মুহূর্তে প্রত্যয় ব্যাটিং করেন। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের স্পিন যথেষ্ট কার্যকরী। বাঁ হাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ চার-ছক্কা মারেন। বাঁ হাতি ওপেনার সৌম্য তৃতীয় সীমার হিসেবে খেলে থাকেন। এমন একটি কার্যকরী স্কোয়াড নিয়ে আত্মবিশ্বাসী টাইগার অধিনায়ক নাজমুল বলেন, ‘আমাদের দলে বেশ কিছু ভালো অলরাউন্ডার রয়েছে। আমরা ওদের ওপর নির্ভর করছি। এ টুর্নামেন্টে যে কোনো দল জিততে পারে। আমরাও চ্যাম্পিয়ন হতে মরিয়া, চেষ্টা করব। তবে এখনই বেশি কিছু ভাবছি না। আমাদের দলের পেসাররা খুবই ভালো ছন্দে রয়েছেন। নাহিদের মতো বোলার পেয়ে আমরা গর্বিত। যদি ও খেলে তা হলে ঠিক নিজের কাজ করে দেবে। স্পিনার এবং পেসারের ভালো ভারসাম্য আমাদের দলে রয়েছে।’
জয়ের বিষয়ে নাজমুল বাহিনী আত্মবিশ্বাসী হতেই পারে। ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ ৫ ম্যাচের তিনটিতে জিতেছে। গত নভেম্বরে পুনেতে ওয়ানডে বিশ্বকাপে জিতেছিল ভারত। কলম্বোতে এশিয়া কাপের ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল ৬ রানে।
এ ছাড়া ঘরের মাঠে বাইলেটারাল সিরিজটি নাজমুল বাহিনী জিতেছে। অবশ্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এবার নিয়ে দ্বিতীয়বার পরস্পরের মুখোমুখি হচ্ছে। আট বছর আগে বার্মিংহামে সর্বশেষ টুর্নামেন্টটির সেমিফাইনালে বাংলাদেশ হেরেছিল। এবার নাজমুল বাহিনী মরিয়া জিততে।