এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের ঠিক মাঝখানে ক্রিকেটের উইকেট নিয়ে কাজ করছেন কয়েকজন। তাদের হাতে উইকেট ঠিক করার নানান মেশিন। নেট দিয়ে ঘেরাও করে রাখা মাঠের মাঝখানটা। আশপাশে অনেক খুদে ক্রিকেটার। মূল স্টেডিয়ামের পাশে অবস্থিত আউটার মাঠে অনুশীলন করছে তারা। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম জয়ের স্মৃতি বিজড়িত স্টেডিয়ামটি কিছুদিনের মধ্যেই পাকাপোক্তভাবে পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ক্রিকেটের জন্য বাংলাদেশে ডেডিকেটেড অনেক স্টেডিয়াম থাকলেও ফুটবলের জন্য সরকারিভাবে কোনো স্টেডিয়াম নেই বললেই চলে। এবার এম এ আজিজ স্টেডিয়ামটি ফুটবলের জন্য ডেডিকেটেড করার ব্যবস্থা হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে একসময় ফুটবলের সব খেলা হতো। এরপর হয়েছে সিলেটে। এখন বসুন্ধরা কিংস অ্যারিনায় অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয় দলের খেলা। এম এ আজিজ স্টেডিয়াম পেলে কিছুটা সমস্যার সমাধান হতে পারে। অবশ্য এখনো স্টেডিয়ামটি বুঝে পায়নি বাফুফে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার বললেন, ‘আমরা এখনো স্টেডিয়ামটি বুঝে পাইনি। কিছু দিনের মধ্যেই মিটিং হওয়ার কথা। এরপরই হয়তো আমরা স্টেডিয়ামটি বুঝে পাব।’ এম এ আজিজ স্টেডিয়ামটি ফিফার মানদণ্ড মেনেই পুনর্গঠন করা হবে বলে জানালেন তিনি। যেখানে নির্দ্বিধায় আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করা যাবে। ফিফার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য স্টেডিয়ামের বাইরে যথেষ্ট পরিমাণে স্থান থাকতে হবে। দর্শকদের জন্য আসন পাততে হবে গ্যালারিজুড়ে। মাঠটাও হতে পারে আধুনিক। থাকতে হবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রযুক্তিগত পদ্ধতিও রাখতে হবে এই মাঠে। এসব করতে গেলে ক্রিকেট পিচ উঠে যাবে। মাঠ তৈরি করতে হবে নতুন করে। কেবল তাই নয়, স্টেডিয়ামের গ্যালারিও নতুন করে তৈরি করতে হবে। পুনর্গঠন না করে বরং নতুন করে তৈরি করাই হয়তো সাশ্রয়ী হবে! গতকাল এম এ আজিজ স্টেডিয়াম ঘুরে দেখা যায়, গ্যালারির অবস্থা খুবই করুণ। ফিফা আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করার জন্য গ্যালারির সংস্কারের পাশাপাশি আধুনিক সুযোগসুবিধাও রাখতে হবে। সবটাই করবে বাফুফে। কাগজে কলমে সব তৈরি। এবার কেবল চূড়ান্তভাবে বুঝে পাওয়ার অপেক্ষা। তবে এম এ আজিজ স্টেডিয়াম ফুটবলের জন্য ডেডিকেটেড হলে চট্টগ্রামে অন্যান্য খেলাগুলো হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছে স্থানীয়রা। শহরে এম এ আজিজ ছাড়াও আছে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। সাগরিকায় অবস্থিত স্টেডিয়ামটি ক্রিকেটের জন্য নির্ধারিত। এম এ আজিজ ফুটবলের জন্য নির্ধারণ করা হলে বাকি খেলা কোথায় হবে? একসময় এম এ আজিজেও ক্রিকেট খেলা হতো। অন্যান্য খেলার জন্যও তবে নতুন করে স্টেডিয়াম তৈরি করতে হবে চট্টগ্রামে। এমনটাই দাবি করছেন স্থানীয় ক্রীড়াবিদরা।