ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের জানাজা শেষে লাশ আজিমপুর গোরস্থানে তাঁর বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়েছে। গতকাল জুমার নামাজের পর ধানমন্ডি ঈদগাহ ময়দানে তাঁর দ্বিতীয় ও তৃতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আজিমপুরে সমাহিত করা হয়। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকার গ্রিন রোড এলাকায় বায়তুল আকসা মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তাঁর শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খানও এতে অংশ নেন।
জানাজার পর উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ‘তিনি (অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক) অত্যন্ত বিনয়ী ও সজ্জন মানুষ ছিলেন। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাই।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। প্রাক্তন উপাচার্য হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে সম্মাননা দিয়ে থাকে, আমরা তা পরিপূর্ণভাবে পালন করে যাচ্ছি। তাঁর অসুস্থতার সময় পরিবারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ ছিল।’
বিশ্ববিদ্যালয়ে জানাজা না হওয়া নিয়ে সমালোচনা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক উপাচার্য হিসেবে নিয়ম অনুযায়ী অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিকের লাশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বা শহীদ মিনারে নিয়ে একটি নামাজে জানাজা চেয়েছিলেন তাঁর শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা। তবে এমনটি না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে সমালোচনা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, ‘পরিবারের অভিপ্রায়ে তাঁর (অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক) দুটি জানাজার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। তাঁর দাফনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা এ সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানাই।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো বাধা বা অসহযোগিতা না থাকার বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের বিবৃতিতেও জানানো হয়।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে জানাজা নামাজের জন্য নেওয়ার কথা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হলেও তাতে আরেফিন সিদ্দিকের পরিবার রাজি হয়নি বলে নিশ্চিত করেন আরেফিন সিদ্দিকের ছোট ভাই সাইফুল্লাহ সিদ্দিক।
উল্লেখ্য, ৬ মার্চ ঢাকা ক্লাবে (রমনায়) গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক। সেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলার মধ্যেই পড়ে যান এই শিক্ষক। এদিন বিকালে মাথায় আঘাতের কারণে ইব্রাহিম কার্ডিয়াকের নিউরোসায়েন্স ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাঁকে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৭ সাল পর্যন্ত পরপর দুবার এ দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে তিনি সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে অবসর নেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরে যাওয়ার পর আরেফিন সিদ্দিক বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।