জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ উপলক্ষ্যে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আয়োজিত অনুষ্ঠান ঘিরে নিজেরাই নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তুলেছিলেন দলটি নেতা-কর্মীরা। শতাধিক ভলেন্টিয়ার নিয়ে গঠন করা হয় ‘অ্যাকটিভ ফোর্স’। অনুষ্ঠানস্থলে স্থাপন করা হয় আর্চওয়ে। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি করা হয়েছে সবাইকে। অ্যাকটিভ ফোর্সের পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তিন স্তরের নিরাপত্তাবলয় ও চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ছিল। অ্যাকটিভ ফোর্সের তৎপরতায় সুশৃঙ্খলভাবে বিশাল জনসমাগমের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ায় অনেকেই প্রশংসা করছেন।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ পাশে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নতুন দলটির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ তৈরি করা হয়। বাঁশ-কাঠের তৈরি মঞ্চের ব্যানারে লাগানো হয় ডিজিটাল ডিসপ্লে। আশপাশেও ছিল বেশ কিছু ডিসপ্লে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ পাশে বকুল তলার সামনে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে দুটি আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়। সারা দেশ থেকে আগত নেতা-কর্মীরা সেই আর্চওয়ে পার হয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেছেন। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দুই পাশে ঢাকাসহ সারা দেশ থেকে আগত নতুন দলের নেতা-কর্মীরা শৃঙ্খলভাবে অবস্থান করেন।
অ্যাকটিভ ফোর্সের সদস্যরা বলেন, শতাধিক ভলেন্টিয়ার নিয়ে আমাদের অ্যাকটিভ ফোর্স গঠন করা হয়। পাশাপাশি এ দুটি আর্চওয়ে গেট ছাড়া, আমরা ভিতরে কাউকে প্রবেশ করতে দেইনি। পাশাপাশি সবাইকে তল্লাশি করা হয়। নারীদের তল্লাশির জন্য নারী ভলেন্টিয়ার রাখা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে কারও ব্যাগে সিগারেট ও দিয়াশলাই থাকলে সেগুলো আমরা রেখে দিয়েছি। অনুষ্ঠানস্থলে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়, দায়িত্ব পালনের সময় সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে তাদের অবহিত করতে।
এদিকে প্রবেশপথ ছাড়াও অনুষ্ঠানস্থলের মাঝামাঝি স্থানে আরেকটি আর্চওয়ে দিয়ে তল্লাশি করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলে পোশাকে ও সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যদের দেখা গেছে। গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনদেরও আশপাশে দেখা গেছে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মো. ইবনে মিজান বলেন, নতুন দলটির আত্মপ্রকাশ উপলক্ষ্যে ডিএমপির পক্ষ থেকে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দারা কাজ করেছেন। ট্রাফিক পুলিশও সড়কে যান চলাচল অব্যাহত রাখতে কঠোর পরিশ্রম করেছে। সবকিছু মিলিয়ে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি ছিল না।