পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কর্মবিরতি পালন করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্মকর্তারা। অফিসে এলেও কর্মকর্তারা কোনো কাজে যোগ দেননি। তারা দ্রুত বর্তমান কমিশনের সবার পদত্যাগ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে চার দফা দাবি জানিয়েছেন তারা। এ ছাড়া কমিশনের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কর্মবিরতি কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন কর্মকর্তারা। অন্যদিকে সকালে কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা কার্যালয়ে আসেননি। দুপুরের পর সেনা পাহারায় কার্যালয়ে আসেন তারা সবাই। এ সময় চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, আজকে সরকারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা আমাদের বলেছেন, যে কাজটা করে যাচ্ছি, সেটা যেন করে যাই, আরও জোরদার করি। কোনো হুমকিতে কমিশন পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সবাই স্বপদে বহাল থাকতে চাই। এদিকে বিএসইসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। সবমিলিয়ে বিএসইসিতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিএসইসি কর্মকর্তারা গতকাল সারা দিন কর্মবিরতি পালন করেন। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে ডেকে এনে বিএসইসি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর লাঠিচার্জ ও হামলা চালিয়ে আহত করা হয়েছে। গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কমিশনের চেয়ারম্যান ও কমিশনাররা সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার (গার্মেন্টস কর্মী, ফোরম্যান, কুয়োরব্যাঙ, চোর ইত্যাদি বলে গালমন্দ করেন) করেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। ফ্যাসিস্ট সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত কমিশনার মহসীন চৌধুরী অন্য কমিশনার এবং চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে বিগত সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসর এবং শোকজসহ নানাবিধ হয়রানি করছে। বিজ্ঞপ্তিতে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে চারটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে- বর্তমান কমিশনকে অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে ডেকে কমিশনের-কর্মকর্তা কর্মচারীদের লাঠিচার্জ করার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিএসইসির জন্য পুঁজিবাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও যোগ্য চেয়ারম্যান এবং কমিশনার নিয়োগ দিতে হবে। সংস্কারের অংশ হিসেবে কমিশনকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান এবং দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এই চার প্রস্তাব তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫ মার্চ কমিশনের কাছে তাদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া উত্থাপন করেছেন। দাবি-দাওয়ার কোনো সুরাহা না করে মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে ডেকে এনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর লাঠিচার্জ ও হামলা চালিয়ে আহত করার মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজ কর্মস্থলে লাঠিচার্জ ও হামলার শিকার হওয়া বিএসইসি তথা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।
পদত্যাগ করবেন না চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ : বেলা ৩টার দিকে বিএসইসি চেয়ারম্যান রাশেদ মাকসুদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আগারগাঁওয়ের বিএসইসি ভবনে প্রবেশ করেন। এ সময়ে বিএসইসি প্রাঙ্গণে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন। তারা নিরাপত্তা দিয়ে বিএসইসি চেয়ারম্যানকে নিজ কক্ষে পৌঁছে দেন। একই সময়ে ভবনে প্রবেশ করেন তিন কমিশনার মো. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর ও ফারজানা লালারুখ। পরে তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। বিএসইসির চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা যে মিশন নিয়ে নেমেছি, সেই মিশন থেকে এক চুল পরিমাণ নড়ব না। কোনো ধরনের অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না। আমরা যে কাজ নিষ্ঠা ও নিয়মের সঙ্গে করে আসছি, সেটা করে যাব। কমিশনার ফারজানা লালারুখ বলেন, আমরা আহ্বান জানাব তাদের কাজে যোগদানের জন্য। তার পরও যদি কাজে না আসেন সেটা দেখা যাবে।
দ্রুত সংকটের সমাধান চান বাজারসংশ্লিষ্টরা : বিএসইসির অভ্যন্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে সৃষ্ট ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে পুঁজিবাজারের স্টক ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)। সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে পুঁজিবাজারের বৃহত্তর স্বার্থে এই ঘটনার দ্রুত সমাধান চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভ : বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগের দাবিতে ফের বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন বিনিয়োগকারীরা। তারা বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এ কর্মসূচি পালন করেন। গতকাল সকালে বিএসইসি ভবনের সামনে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমআইএ) ব্যানারে বিএসইসি ভবনের সামনে বিনিয়োগকারীরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।