মোটরসাইকেল পার্সেলের আড়ালে মাদক পাচার করে আসছিল ওরা। কক্সবাজার কিংবা চট্টগ্রাম থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠাত মাদকের বড় বড় চালান। দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে কাজটি করে এলেও এবার পরপর দুটি চালান হাতছাড়া হলো এই সিন্ডিকেটের। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মারফিয়া আফরোজের নেতৃত্বে একটি দল কাকরাইল এস এ পরিবহনের প্রধান কার্যালয়ে একটি মোটরসাইকেল থেকে ৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। বাগেরহাট থেকে গ্রেপ্তার করে রিয়াজুল ইসলাম (৩৫) ও তামিম মুন্সি (২৫) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে।
ডিএনসি গোয়েন্দার উপপরিচালক খোরশিদ আলম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, গত রবিবার পল্টন থানায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার দুজনকে তিন দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। আশা করছি তাদের কাছ থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদায় করা সম্ভব হবে।
ডিএনসি সূত্র বলছে, গত শুক্রবার খবর আসে কক্সবাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে ইয়াবার বড় একটি চালান পাঠানো হয়েছে। গন্তব্য বাগেরহাট। বুকিং স্লিপ/ইনভয়েস নং ৫৮৮৮৮৭। সে অনুযায়ী এস এ পরিবহনের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। একটি হিরো হান্ক মডেলের বাইকের এয়ার ফিল্টারের ভিতর থেকে প্যাকেটে থাকা পাঁচ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে বাগেরহাট এসএ পরিবহনে সেই মোটরসাইকেল রিসিভ করতে আসা রিয়াজুল ও তামিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা হয় মোটরসাইকেলটি। মামলার এজাহার অনুযায়ী, গ্রেপ্তাররা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তারা মোটরবাইকের আড়ালে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে এনে বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, নড়াইল, মাদারীপুরসহ অন্যান্য জেলায় মাদক বিক্রি করেছেন। সূত্র আরও বলছে, গত দুই মাস আগে রিয়াজুল নিজেই কক্সবাজার থেকে মাদারীপুরে ৫ হাজার পিস ইয়াবার একটি চালান পাঠিয়েছিলেন। তখন মফিজ কাজী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে ডিএনসি। সেই চালানটির বাজারমূল্য ছিল ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।