শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অনেক পদ এখনো প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের দখলে। শীর্ষ পদগুলো অন্য ক্যাডার দখল করায় শিক্ষক ও শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের মধ্যে যেমন ক্ষোভ বাড়ছে, অন্যদিকে এসব দপ্তর শিক্ষার বিস্তার ও উন্নয়নে তেমন ভূমিকা রাখছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তথ্যমতে, বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদরাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে বরাবরই নিয়োগ দেওয়া হয় প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের। এনটিআরসিএর আইন অনুযায়ী অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা অথবা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের একজন প্রথিতযশা অধ্যাপক প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ২১ জন এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান নিয়োগ পেলেও বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের কোনো অধ্যাপক একজনও নেই। এ প্রতিষ্ঠানের অন্য বড় পদগুলোও দখল করে রয়েছেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা। শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে শীর্ষ এ পদগুলোতে পদায়ন হয়ে থাকে বলে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তারা বেশি সুবিধা পান। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কখনো কখনো শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করে। সে ক্ষেত্রেও প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তারা অগ্রাধিকার পান। যোগ্য ও বিধি মোতাবেক যুগ্মসচিব, অতিরিক্ত সচিব বা কোনো প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপকদের দায়িত্ব দেওয়ার নিয়ম থাকলেও প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদেরই আধিপত্য বেশি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ভিত রচনা হয় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। আর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রমসহ যাবতীয় বিষয় দেখভাল করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। গুরুত্বপূর্ণ এ দপ্তরের শীর্ষপদ প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের দখলে। অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদেও রয়েছেন একই ক্যাডারের কর্মকর্তারা। প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধানের জন্য গবেষণা পরিচালনা করে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ এ দপ্তরের প্রধান প্রশাসন ক্যাডারের একজন যুগ্মসচিব। সারা দেশের মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করে করে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। এ অধিদপ্তরে শীর্ষপদে নিয়োগ পান অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তারা। একইভাবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদেও রয়েছেন প্রশাসন ক্যাডারের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তারা। বর্তমানে অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। সারা দেশের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত তথ্য ও গবেষণা করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। এ প্রতিষ্ঠানে আরও রয়েছেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। এ ছাড়া শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষপদ ছাড়াও বড় অনেক পদ দখল করে আছেন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সাবেক মহাসচিব মো. শওকত হোসেন মোল্যা বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন পেশার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে আমাদের দেশে শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো অপেশাদারদের নিয়ন্ত্রণে থাকা খুবই দুঃখজনক। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট দপ্তরে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিয়োগ পদায়ন জরুরি। আমরা দেশের স্বার্থেই পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয়ের দাবি করছি। তাতে দেশের মানুষ স্ব স্ব পেশার দক্ষ কর্মীদের সেবা পাবে। এগিয়ে যাবে দেশ।’