সুইডেনে পবিত্র কোরআন অবমাননাকারী সালওয়ান মোমিকা গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। গত বুধবার (২৯ জানুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে। গতকাল সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের একটি আদালতে তার বিরুদ্ধে কোরআন অবমাননার মামলার রায় দেওয়ার কথা ছিল। এর আগেই তাকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটল। বার্তাসংস্থা রয়টার্স সুইডিশ মিডিয়ার বরাতে জানিয়েছে, কোরআন অবমাননাকারী মোমিকাকে যখন গুলি করা হয় তখন তিনি টিকটকে লাইভ করছিলেন। রয়টার্সের সাংবাদিক জানিয়েছেন, তিনি ভিডিওতে দেখতে পেয়েছেন, পুলিশ এসে টিকটকের সেই লাইভটি বন্ধ করছে। মানে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও মোমিকার টিকটক থেকে লাইভ চলছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এসভিটি জানিয়েছে, ৩৮ বছর বয়সি মোমিকা স্টকহোমের নিকটবর্তী শহর সোদারতালজের একটি বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হন।
সালওয়ান মূলত ইরাকি নাগরিক। তিনি সুইডেনে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে ছিলেন।
২০২৩ সালে ঈদুল আজহার দিন একটি মসজিদের সামনে কোরআন পোড়ান তিনি। এরপর ওই বছর সুইডেন এবং ডেনমার্কে আরও কিছু দুষ্কৃতিকারী একই কাজ করেন। এ নিয়ে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে এগুলোর নিন্দা জানায়। এ ছাড়া কোথাও কোথাও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তা সত্ত্বেও মোমিকা এবং তার কিছু সহযোগী কোরআন পোড়ানো অব্যাহত রাখে। এতে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
৩৮ বছর বয়সি এ ইরাকি ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী কুখ্যাতি লাভ করেন। তিনি ওই বছর একাধিকবার কোরআন অবমাননা করেন। ‘বাক স্বাধীনতার’ দোহাই দিয়ে সুইডেনের সরকার মোমিকার এই কর্মকান্ডকে সমর্থন দিয়েছিল। এমনকি যে সময় তিনি কোরআন অবমাননা করেন তখন পুলিশ তাকে নিরাপত্তাও দেয়। তবে এ নিয়ে যখন উত্তেজনা বাড়তে থাকে তখন দেশটির সরকারকে সতর্কতা দিয়ে বলা হয়, মোমিকার এমন কর্মকান্ড অব্যাহত থাকলে ইসলামপন্থিরা সুইডেনে হামলা চালাতে পারে। বিক্ষোভ ও সমালোচনার মুখে সুইডিশ সরকার মোমিকার রেসিডেন্স পারমিট বাতিল করে। তবে তাকে নিজ দেশ ইরাকে ফেরত পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা করেনি দেশটির সরকার। সূত্র : রয়টার্স, ওয়াশিংটন পোস্ট।