আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত শান্তিচুক্তি সইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের স্টেট ব্যুরো অব এনার্জি রিসোর্সেসের ঊর্ধ্বতন উপদেষ্টা এরিক জ্যাকবস এ কথা বলেছেন। গতকাল বাকুতে জ্বালানি সম্মেলনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে জ্যাকবস বলেন, এ শান্তিচুক্তি দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির নতুন যুগের সূচনা করবে। গত মাসে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া জানায়, নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে প্রায় চার দশক ধরে চলা সংঘাত অবসানে তারা একটি খসড়া শান্তিচুক্তিতে রাজি হয়েছে। কারাবাখ অঞ্চলটি মূলত মুসলিমপ্রধান আজারবাইজানের অংশ হলেও ২০২৩ সাল পর্যন্ত সেখানে ব্যাপক আর্মেনীয় খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর বাস ছিল। ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে, যখন উভয় দেশ ভেঙে পড়তে থাকা সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল, তখনই এ অঞ্চল নিয়ে সংঘাত শুরু হয়। -রয়টার্স
পরে কয়েক দফা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে কারাবাখ আর্মেনিয়ার সহায়তায় আজারবাইজান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কার্যত স্বাধীনতা ঘোষণা করে। তবে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সামরিক অভিযানে আজারবাইজান অঞ্চলটি পুনর্দখল করে, যার ফলে প্রায় ১ লাখ জাতিগত আর্মেনীয় অঞ্চল ছেড়ে পালিয়ে যায়। এরপর উভয় দেশই শান্তিচুক্তি চায় বলে জানিয়ে এসেছে। তবে আলোচনায় অগ্রগতি ছিল ধীর ও খি ত। গত মাসে হঠাৎ শান্তি প্রচেষ্টায় অগ্রগতি ঘটে। তবে শান্তিচুক্তিটি এখনো দ্রুত সই হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, আজারবাইজান চাইছে আর্মেনিয়া আগে তাদের সংবিধান পরিবর্তন করে কারাবাখের স্বাধীনতার যে উল্লেখ রয়েছে, তা মুছে ফেলুক। চুক্তির খসড়ায় দুই পক্ষ রাজি হওয়ার পর থেকে উভয় দেশই সীমান্ত অঞ্চলে পরস্পরের অবস্থানে গুলি চালানোর অভিযোগ করেছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।