মধ্য আমেরিকার দেশ কোস্টারিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট, নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অস্কার আরিয়াস তাঁর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন। প্রকাশ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করার কয়েক সপ্তাহ পর মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাঁকে ভিসা বাতিলের এ খবর দিয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে আরিয়াস রোমান সম্রাটের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তুলনা টেনেছিলেন।
কী কারণে ভিসা বাতিল হয়েছে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ তার কোনো ব্যাখ্যা দেননি বলে ৮৪ বছর বয়সি আরিয়াসের বরাত দিয়ে জানিয়েছে বিবিসি। মধ্য আমেরিকায় সংঘাত থামাতে অনন্য ভূমিকার জন্য কোস্টারিকার এ সাবেক প্রেসিডেন্টকে ১৯৮৭ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছিল। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকাকালে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার চেষ্টা করেছিলেন, সেই কর্মের সাজাস্বরূপও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বাতিল হতে পারে, ইঙ্গিত আরিয়াসের।
কোস্টারিকার রাজধানী সান হোসেতে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কী কারণে ভিসা বাতিল হলো সে সম্পর্কে ‘কোনো ধারণা’ নেই তাঁর। ‘যুক্তরাষ্ট্রের সরকার কেবল কয়েক লাইনের চাঁছাছোলা একটি ইমেইলে ভিসা বাতিলের কথা জানিয়েছে,’ বলেছেন তিনি। তাঁর আন্দাজ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কী কারণে ভিসা বাতিল হয়েছে সে সম্পর্কে অনুমান করতে বলা হলে তিনি বলেন, ‘আমি চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলাম, এটা অবশ্য পুরো দুনিয়া জানে।’ প্রেসিডেন্ট থাকাকালে আরিয়াস ২০০৭ সালে তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে ‘এক চীন’ নীতির পক্ষে কোস্টারিকাকে নিয়ে যান। -রয়টার্স
ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে পশ্চিম গোলার্ধে চীনের প্রভাব কমাতে; এরই মধ্যে তারা মধ্য আমেরিকার অনেক দেশের বিরুদ্ধে চীনের সরকার ও কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বেশি মাখামাখি করারও অভিযোগ এনেছে।
ওয়াশিংটন অবশ্য দেশটির এখনকার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো শাভেজের ওপর বেজায় খুশি; শাভেজ কোস্টারিকায় ৫জি উন্নয়নে কোনো চীনা কোম্পানিকে অংশ নিতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শাভেজের এ মাখামাখির তুমুল বিরোধী আরিয়াস। এ নিয়ে ফেব্রুয়ারিতে সমাজমাধ্যমে পোস্টে তিনি বলেন, ‘ছোট একটি দেশের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কথা না মানা কখনোই সহজ বিষয় নয়, তা-ও আবার যখন দেশটির এখনকার প্রেসিডেন্ট অনেকটা রোমান সম্রাটের মতো আচরণ করছেন, বাকি দুনিয়াকে বলছেন কী করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার সরকার কখনোই ওয়াশিংটনের কাছ থেকে নির্দেশ নিত না, আমরা ব্যানানা রিপাবলিকা ছিলাম না।’ কেবল আরিয়াসই নন, কোস্টারিকার জাতীয় পরিষদের তিন সদস্যের ভিসাও বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ তিনজনই ৫জি উন্নয়নে চীনা কোম্পানিকে অংশ না নিতে দেওয়ার প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন।