চীনে স্বেচ্ছায় মরণোত্তর অঙ্গ দান করতে ৭০ লাখের বেশি মানুষ নিবন্ধন করেছেন। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৫৮ হাজার মরণোত্তর অঙ্গ প্রতিস্থাপন সার্জারি, ৬৩ হাজারেরও বেশি দেহদান এবং ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি কর্নিয়া দান করা হয়েছে। এই দানের মাধ্যমে জীবন ফিরে পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ। ১ লাখের বেশি মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
চায়না অর্গান ডোনেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৩০ মার্চ পর্যন্ত চীনে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় দেহ ও অঙ্গদানের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন। আর ৫১ হাজার ৭৭৬টি মরণোত্তর অঙ্গদান সম্পন্ন হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ লাখ ৫৯ হাজার ১১৫ টিরও বেশি মানব অঙ্গ দান করা হয়েছে।
জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের মেডিকেল ইমার্জেন্সি প্রতিক্রিয়া বিভাগের উপপরিচালক গাও গুয়াংমিং বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে চীনে অঙ্গদান ও প্রতিস্থাপনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে চীনে ৬ হাজার ৭৪৪টি অঙ্গদান এবং ২৪ হাজার ৬৮৪টি প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় যথাক্রমে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এটি একটি নতুন ঐতিহাসিক মাইলফলক।
প্রতিবছর চীনে প্রয়াতদের স্মরণে একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। এই বার্ষিক জাতীয় স্মরণ অনুষ্ঠানটি চীনের রেড ক্রস সোসাইটি ও জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের তত্ত্বাবধানে এবং চায়না অর্গান ডোনেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সেন্টারের (সিওডিএসি) উদ্যোগে আয়োজিত হয়। এটি অঙ্গদানের প্রচার কার্যক্রম হিসেবেও কাজ করে। এর মাধ্যমে দেশজুড়ে মানুষকে আরও বেশি অঙ্গদানে উদ্বুদ্ধ করা হয়। এ আয়োজনে অঙ্গদাতাদের ও তাদের পরিবারের গল্প, প্রতিস্থাপিত রোগীদের অভিজ্ঞতা এবং অঙ্গদান সমন্বয়কারীদের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।
এমনকি দেশটিতে অঙ্গদাতাদের সম্মান জানাতে ২৮০টির বেশি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে।
ঝাং ডিংইউ নামে এক ব্যক্তিকে মানব অঙ্গদানের প্রচারদূত হিসেবে সম্মানিত করা হয়েছে। ঝাং ডিংইউ অ্যামিয়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস (এএলএস) নামে এক প্রাণঘাতী ও দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত। তবু তিনি কোভিড-১৯ মহামারির সময় সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। তারপর তাঁকে ‘জনতার নায়ক’ হিসেবে জাতীয়ভাবে সম্মানিত করা হয়। ২০২২ সালে এএলএস রোগ গবেষণার জন্য মরণোত্তর দেহদানের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
ঝাং ডিংইউ বর্তমানে হুয়াঝং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির টোংজি মেডিকেল কলেজের ইউনিয়ন হাসপাতাল এবং হুবেই জিয়াংশিয়া ল্যাবরেটরিতে একজন চিকিৎসাকর্মী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, অঙ্গদাতা হওয়া তাঁর জন্য এক স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত। যদিও প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, শরীর বাবা-মায়ের কাছ থেকে পাওয়া, তবে তিনি মনে করেন, এটি সমাজ ও সমগ্র মানবতারও।
বিডি প্রতিদিন/আশিক