বিদায় শব্দটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে কষ্ট ও বেদনা। পবিত্র রমজানুল মুবারকের বিদায় আমাদের হৃদয়ে এক অন্যরকম অনুভূতি তৈরি করছে। নাড়া দিচ্ছে সর্বন্তকরণে। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের প্রাচুর্য নিয়ে এসেছিল রমজানুল মুবারক। এ থেকে বঞ্চিত হব, তা ভাবতেই কষ্ট হয়। মাহে রমজান আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আমরা কি পেরেছি রহমতের বৃষ্টিতে অবগাহন করতে, মাগফিরাতের সাগরে ভাসতে, আমরা কি পেরেছি নাজাতের সুবাতাস হৃদয়ে বইয়ে দিতে। খোদাভীতি ও তাকওয়া কি আমাদের অর্জন হয়েছে। আল্লাহর ভয়ে সব ধরনের অন্যায়, পাপাচার, লোভ-লালসা ছাড়তে পেরেছি কি। আসুন রমজানের যতটুকু সময় আছে এর প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগাই। আগত জীবনটাকে আরও সফল করি।
নিতান্ত আফসোস এবং দুঃখবোধ হয়, আমরা অনেকে মাহে রমজান বিদায়ে কোনো অনুভূতি লালন করি না। আমাদের উপলব্ধি নেই যে, কোন অমূল্য সময় জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। রমজান আবারও আসবে। যত দিন আল্লাহর ইচ্ছা, তিনি পৃথিবীর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখবেন ওই পর্যন্ত রমজান আসবে। প্রতি বছরই আসবে। যথাযথ মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে আসবে। রোজাদাররা রোজা রাখবেন। মুসল্লিরা মসজিদ আবাদ করবেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো- আমরা এই সুযোগ পাব কি না? অতএব, মহান প্রভু আমাদেরকে রমজান দান করেছিলেন, এতে আমরা আনন্দিত হয়েছিলাম। এর বিদায়ে হব আমরা ব্যথিত। এই অনুভূতি নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে অশ্রু বিসর্জন করি। ইবাদত, নামাজ, জিকির, দোয়া ও ইস্তেগফারে আরও মনোযোগী হই। বেশি বেশি কোরআনে কারিম তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের প্রচেষ্টা করি। রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘এমন দুটি নিয়ামত আছে, যে দুটিতে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তা হচ্ছে, সুস্থতা আর অবসর।’ (বুখারি) রমজানের শেষভাগে আল্লাহর পূর্বসূরি বান্দারা চিন্তিত হতেন। তাদের উদ্বেগ বেড়ে যেত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলতেন, আমাদের মধ্যে কার রোজা কবুল হলো, আমরা তাকে অভিনন্দন জানাব এবং কে বঞ্চিত হলো, তার জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করব তা তো কারও জানা নেই। তাই রমজানের বিদায়ে সবার মধ্যে এই উদ্বেগ-অনুভূতি জাগ্রত হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন সবার করণীয় নির্ণয় করা। মোটকথা, যারা রমজানের নিয়ামত যথার্থভাবে গ্রহণ করেছেন, পালন করেছেন এই মাসটি আল্লাহ ও রসুলের সন্তুষ্টি লাভের আশা নিয়ে- তারা আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করবেন। যারা রমজানকে অবহেলায় হারিয়েছেন তারা তাওবা করবেন, অনুতপ্ত হবেন। আল্লাহতায়ালা ক্ষমাশীল। কোনো বিলম্ব না করে কল্যাণের পথে প্রত্যাবর্তন করা উচিত। উচিত যাবতীয় বিধিবিধান যথাযথভাবে পালন করার ব্যাপারে আরও যত্নশীল হওয়া। আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে এই বাস্তবতা উপলব্ধি করার তাওফিক দান করুন।
লেখক : গবেষক, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।