রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের উদ্দেশ্যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টা কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে তারা ফোনালাপ করেন বলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভের বরাতে জানিয়েছে রুশ বার্তা সংস্থা তাস।
ফোনালাপের পর পুতিনের দপ্তর ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে ৩০ দিনের জন্য হামলা বন্ধের ব্যাপারে রাজি হয়েছে তারা। আর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ট্রাম্প ও পুতিন প্রায় দুই ঘণ্টা কথা বলেন।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ইউক্রেন ইস্যুতে এ নিয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে দ্বিতীয়বার ফোনে কথা বললেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রাশিয়ার সঙ্গে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় ইউক্রেন। এরপর একই প্রস্তাব রাশিয়াকেও দেয় ওয়াশিংটন। যদিও রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন এখনো এতে পুরোপুরি রাজি হননি। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি কথা বললে পুতিন হয়তো যুদ্ধবিরতিতে রাজি হতে পারেন। ৩০ দিনের ওই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের পর পুতিন গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তাঁরা যুদ্ধবিরতিতে রাজি। তবে এ যুদ্ধবিরতি হতে হবে ইউক্রেন ইস্যুতে সংকটের মূল সমস্যার ওপর ভিত্তি করে। যেটির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে থাকা দ্বন্দ্ব নিরসন হবে। এ ছাড়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবটির বিস্তারিত জানতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প এরপর কয়েকবার গণমাধ্যমে দেওয়া মন্তব্যে রাশিয়াকে ইউক্রেনের ভূখণ্ড দিয়ে দেওয়া এবং বিখ্যাত জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার ইঙ্গিত দেন। রাশিয়া জানিয়েছে, তাদের স্বার্থ রক্ষা হলেই কেবল তারা যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবে। তিন বছরের যুদ্ধে ইউক্রেনের পাঁচ ভাগের এক ভাগ অংশ দখল করেছে রাশিয়া। যেগুলোকে তারা এখন নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করছে।
এক্ষেত্রে কোনো ছাড় হবে না বলেও মস্কো বারবার বলে আসছে।
এদিকে, ফোনালাপের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ডান স্কাভিনো পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট করেন। আর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এ ফোনালাপের ব্যাপারে খুব বেশি তথ্য জানা যাচ্ছে না। তবে ডান স্কাভিনোর পোস্টের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে ট্রাম্প ও পুতিন ৯০ মিনিটের বেশি সময় ধরে কথা বলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার সংঘাতের তিন বছর পূর্ণ হয়েছে। এ সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই তৎপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।