দীর্ঘ সাত বছর পর রাজধানী ঢাকায় দলের বর্ধিত সভায় নেতা-কর্মীদের প্রতি আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণের বার্তা দিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যে কোনো মূল্যে ঐক্য ও শৃঙ্খলা ধরে রাখার ওপর প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দিলেন তিনি। জাতীয় সংসদের এলডি হল প্রাঙ্গণে বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র থেকে দিনভর নেতা-কর্মীদের মাঝে ছিল উচ্ছ্বাস-উদ্দীপনা। ৫ হাজারেরও বেশি নেতা-কর্মী অংশ নেন এতে।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের (ভার্চুয়ালি) সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন তিনি।
গভার দ্বিতীয় কার্য অধিবেশনে কেন্দ্র ও তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিসহ একগুচ্ছ বার্তা দেন শীর্ষ নেতা তারেক রহমান। এ ছাড়া ঐক্যবদ্ধ থাকা ও দলীয় শৃঙ্খলা ধরে রাখার ওপর প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি। এই সভা ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ১৯৯৭ সালের পর বড় পরিসরে বর্ধিত সভা এটাই প্রথম। এই সভা আহ্বান করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভায় অংশ নেওয়া নেতাদের জন্য সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার, সন্ধ্যার নাশতার ব্যবস্থা করা হয়। দিনব্যাপী সভায় জাতীয় স্থায়ী কমিটি, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সব কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন। এ ছাড়া সব জেলা ও মহানগরীর সভাপতি/আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক/সদস্য সচিব, মহানগর ও জেলাধীন সব থানা, উপজেলা ও পৌর কমিটির সভাপতি/আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক/সদস্য সচিব এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছিলেন ও মনোনয়নের জন্য প্রাথমিক চিঠি পেয়েছিলেন তারাও এ সভায় অংশ নেন।
সভা সফল করতে বর্ধিত সভা ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ছিলেন সার্বিক প্রস্তুতির কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে। এর আগে ২০১৮ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে নির্বাহী কমিটির বর্ধিত সভা করে বিএনপি। তখন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু সভা পরিচালনা করেন। বর্ধিত সভার স্বাগত বক্তৃতায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাইরে থেকে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা এবং দেশের ভিতর থেকে একটি পক্ষ গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, বর্ধিত সভার পর সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডগুলো গুরুত্বের সঙ্গে করব তারেক রহমানের নেতৃত্বে। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর দক্ষতার সঙ্গে আমাদের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ডান-বামকে এক জায়গায় এনে ৩১ দফা দিয়েছেন। মির্জা ফখরুল বলেন, পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থেকে এবং দেশের ভিতর থেকে একটা পক্ষ প্রতিনিয়ত গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। তারা অখণ্ড বাংলার বিখ্যাত মনীষীদের নামে থাকা স্থাপনাগুলো থেকে তাদের নাম সরিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নামে নামকরণের কথা বলে একটা অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
এর আগে, কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে বর্ধিত সভা শুরু হয়। দেশের চলমান পরিস্থিতি, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মিত্র দলগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা- এই চার এজেন্ডা সামনে রেখে এবারের বর্ধিত সভা ডাকা হয়।