জেলা পর্যায়ের পৌরসভা বাদে বাকি উপজেলা ও গ্রামীণ বাজারকেন্দ্রিক পৌরসভা বিলুপ্তির সুপারিশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন। এই পৌর কার্যক্রমগুলো উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
কমিশন সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সুপারিশে এসব পৌরসভা গঠিত হয়েছে। এগুলোর নিজস্ব কোনো আয় নেই। বেশির ভাগই ঋণগ্রস্ত। নাগরিকদের সেবা দিতে পারে না। এমনকি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতনও পরিশোধ করতে পারে না।
তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকারের মধ্যে ৩৩০টি পৌরসভা ও ১২টি সিটি করপোরেশন রয়েছে। বাংলাদেশ পৌরসভা সমিতি, পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী দেশের ৩৩০টি পৌরসভার মধ্যে অন্তত ১০০টি আইন মেনে গঠন করা হয়নি। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এগুলো করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য বলছে, সংশ্লিষ্ট পৌরসভাগুলোর মধ্যে ১০০টির মতো নিজস্ব অর্থায়নে চলতে পারে। বাকিগুলো চলছে ঋণে-ধারে। পৌরসভা আইন ২০০৯ অনুযায়ী, পৌরসভা হতে পারবে এমন গ্রামীণ এলাকায়, যেখানে জনসংখ্যা কমপক্ষে ৫০ হাজার, ৩৩ শতাংশ অকৃষিজমি এবং তিন-চতুর্থাংশ ব্যক্তি কৃষি ছাড়া অন্য পেশায় নিয়োজিত থাকবে। বেশির ভাগ পৌরসভা গঠনে এই আইন মানা হয়নি বলে কমিশন জানাচ্ছে। কমিশনের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ ২ বর্গমাইল এলাকা-যেখানে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ বিদ্যমান, সেখানে পৌরসভা হওয়ার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কিছু পৌরসভা গঠন করা হয়েছে। এসব পৌরসভা সেবা প্রদান ও রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রেও অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এ জাতীয় পৌরসভা সরকারের রাজস্বের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। সে কারণে পৌরসভাগুলো বিলুপ্ত করা সমীচীন হবে বলে মনে করছে কমিশন। রাজনৈতিক বিবেচনায় ঘোষিত দুর্বল পৌরসভাগুলোকে যাচাই-বাছাই করে বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ার পক্ষে জরিপে অংশ নেওয়া ৭২ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতা মতামত দিয়েছেন বলে কমিশন জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক সুপারিশে এসব পৌরসভা গঠনের সময় আইন অনুসরণ করা হয়নি। এসব পৌরসভার আর্থিক ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল। এরা নিরাপদ পানি ও পয়োব্যবস্থাপনাসহ জরুরি সেবাগুলো সঠিকভাবে প্রদান করতে পারে না। তাদের কর্মীদের বেতন-ভাতাও নিয়মিত পরিশোধ করতে পারছে না। স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. তোফায়েল আহমেদ সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, বর্তমান যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে পৌরসভারগুলোর আয় নেই, কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বাকি আছে। তাই পৌরসভাগুলোকে বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হতে পারে।