প্রধানমন্ত্রীর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে অন্য কোনো পথ না পেয়ে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান সংবিধান সংস্কার কমিটির প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, একবার প্রধানমন্ত্রী হলেই তাকে আর কোনো জবাবদিহি করতে হয় না। এটা থেকে বেরিয়ে আসতেই ওই অনুচ্ছেদ পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য আছে। গতকাল সংসদ সচিবালয়ের এলডি হলে সংবিধান সংস্কার কমিশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সংবিধান সংস্কার কমিশন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ড. আলী রীয়াজ বলেন, ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী শাসনের আশঙ্কা মোকাবিলার উপায় হচ্ছে, শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং তা স্থায়ী করা। ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির জন্য প্রতিষ্ঠান তৈরি ও সেগুলোর স্বাধীনতা নিশ্চিত করাও জরুরি। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় পর্যায় থেকে শাসনব্যবস্থার সর্বস্তরে নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। তাদের প্রতিনিধিত্বকে কার্যকর করে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, সাংবিধানিক কাউন্সিল-এনসিসি গঠন করা হলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও প্রক্রিয়া জোরদার হবে। সংবিধানের যে অপব্যবহার হয়েছে সেটাও রোধ করা সম্ভব হবে। সংবিধান সংশোধনে জনগণের ম্যান্ডেট নেওয়া হয়নি আগে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সংকট তৈরি হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কমিশনপ্রধান বলেন, গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার হবে কি না তা ঠিক করবে এই সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলো। তিনি আরও বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচনের আগে অনেক সংস্কার সম্ভব।