দরপতনে পুঁজি হারিয়ে দিশাহারা হয়ে মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীরা। শেয়ারবাজারে লুটতরাজ চলছে এমন অভিযোগ তুলে আগামীকাল মতিঝিলে প্রতিবাদ মহাসমাবেশের এ ঘোষণা দিয়েছেন তারা। বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমআইএ) নামের একটি সংগঠন রাজধানীর পল্টনে সিএমজেএফ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেয়। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে সারা দেশের বিনিয়োকারীদের মহাসমাবেশে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের প্রধান মুখপাত্র মো. নূরুল ইসলাম মানিক, সিনিয়র মুখপাত্র এস এম ইকবাল হোসেন এবং মুখপাত্র মো. ফরিদ আহমেদ। মহাসমাবেশে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, সোমবার বেলা ২টায় ঢাকার মতিঝিলে ডিএসই ভবনের সামনে প্রতিবাদ মহাসমাবেশ হবে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেবেন। সংগঠনের প্রধান মুখপাত্র বলেন, বর্তমানে শেয়ারবাজারে ৯৯ শতাংশ বিনিয়োগকারী ক্ষতিগ্রস্ত। এসব বিনিয়োগকারীর পুঁজি রক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বর্তমান নেতৃত্ব কোনো ভূমিকা রাখছে না। বরং তারা যেন শেয়ারবাজার ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে নেমেছেন। তিনি বলেন, সোমবার আমরা মহাসমাবেশ করব। এ সমাবেশে ব্রোকারেজ হাউসের কর্মী ও বিনিয়োগকারীরা যাতে অংশ না নেন, সেই হুমকি দিয়ে বিএসইসি থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। তিনি বলেন, শেয়ারবাজারে লুটতরাজ চলছে। ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সবকিছু মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু ৫ আগস্টের পর নতুন আশা জাগে। বিনিয়োগকারীরা ভেবেছিল আওয়ামী লীগ আমলে যে লুটতরাজ হয়েছে, সবকিছু পুষিয়ে আমরা লাভের দিকে যাব। বিরাট পরিবর্তন হবে, এটাই আশা ছিল। সেটাই হচ্ছিল। তিন দিন বাজার ভালো ছিল। কিন্তু তারপর নিয়ন্ত্রক সংস্থায় এমন লোকদের দায়িত্ব দেওয়া হলো যারা বিনিয়োগকারীদের ধ্বংস থেকে আরও ধ্বংস করছেন। ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত যা হয়েছে, গত পাঁচ মাসে তার থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে। পাঁচ মাসে ৬৬ হাজার কোটি টাকা শেয়ারবাজার থেকে উধাও হয়েছে। এর জবাব কে দেবে?