যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি খারিজ হয়ে গেছে। ১৬ জানুয়ারি ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের জজ রোবার্ট জে হোয়াইট খারিজের এই আদেশ দেন। কোনো শুনানি ছাড়াই মামলাটি খারিজ করা হয়েছে। কারণ, মামলা দায়ের করার সময় ফি হিসেবে ৪০২ ডলার জমা দেননি বাদী রাব্বি আলম। উল্লেখ্য, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলাটি গত বছর ১৫ নভেম্বর দায়ের করেছিলেন মিশিগানের বাসিন্দা এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদ থেকে বহিষ্কৃত, পরে আওয়ামী লীগে যোগদানকারী মামলাবাজ ও চাঁদাবাজ হিসেবে খ্যাত রাব্বি আলম। গত ২৪ নভেম্বর নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে একটি পার্টি হলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রাব্বি আলম জানান, ‘অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস সাধারণ মানুষের জীবনের শান্তি-স্বস্তি কেড়ে নিয়েছেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে রাব্বি আলম বলেন, ‘এ মামলার সঠিক রায় হলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ক্ষমতাচ্যুত করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় বসানো সম্ভব হবে।’
অভিযোগ রয়েছে, সংবাদ সম্মেলনের মধ্যদিয়ে রাব্বি আলম দেশ ও প্রবাস থেকে মোটা অঙ্কের তহবিল সংগ্রহ করেছেন মামলা পরিচালনার জন্য। অথচ ৪০২ ডলারের ফি তিনি আদালতে জমা দেননি। এর আগে ২০২৩ সালের ২৬ জুন রাব্বি আলম মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে একই আদালতে মামলা করেছিলেন। সেটিও ফি ছাড়াই করা হয়েছিল। এরপরই তিনি মামলাটি প্রত্যাহারের আবেদন জানান এবং ২ আগস্ট জজ মামলাটি খারিজ করেন।
এ মামলা পরিচালনার জন্যও তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রীর গ্রিন সিগন্যালে মোটা অঙ্কের তহবিল সংগ্রহ করেছিলেন রাব্বি আলম। তিনি ৬ কংগ্রেসম্যানের বিরুদ্ধেও একই আদালতে মামলা করেন ২০২৩ সালের ১০ জুলাই। বাদীর কাছ থেকে মামলা পরিচালনার সমর্থনে সঠিক কোনো বক্তব্য না পেয়ে গত বছরের ৩০ মে ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের জজ মামলাটি খারিজ করে দেন।
‘ওরা প্রধানমন্ত্রীর লোক’ শিরোনামে বাংলাদেশ নিয়ে আল জাজিরায় প্রচারিত একটি প্রামাণ্যচিত্রের পর এই রাব্বি আলম বাদী হয়ে ২০২১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মিশিগান ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করেন এবং ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। অভিযোগ ওঠে, এ মামলা নিয়েও মোটা অঙ্কের চাঁদাবাজি করেন রাব্বি আলম। দায়েরকৃত প্রতিটি মামলার ১ নম্বর বাদী রাব্বি আলম নিজেই আইনজীবী হিসেবে তা সাবমিট করেন। জানা গেছে, তিনি নিজেকে ‘ডক্টর’ হিসেবে দাবি করেন, কখনো ‘অ্যাটর্নি’ আবার কখনো মার্কিন সেনাবাহিনীর ‘মেজর জেনারেল’ হিসেবে পরিচয় দেন। বাংলাদেশের স্পর্শকাতর ইস্যুকে পুঁজি করে তিনি মামলার তামাশা করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন দলীয় সমর্থকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী থেকে।
বঙ্গবন্ধু পরিষদ, মিশিগান ইউনিটের সভাপতি আহাদ আহমেদ বলেন, দেশ ও দলের এই ক্রান্তিকালে নিউইয়র্কের কিছু তথাকথিত নেতা, হাইব্রিড বহিরাগতদের মুনাফার বিনিময়ে দলীয় পদ-পদবি দিয়ে দল ও দেশের ক্ষতিকারক কাজ একের পর এক করিয়ে নিচ্ছে। কিছু বললেই তারা হাই কমান্ডের দোহাই দেন।
যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুন্নবী জানান, রাব্বি আলম মিথ্যাচার আর ভন্ডামিতে এতই বেপরোয়া যে, এখন তিনি নিজেকে ইউএস আর্মির মেজর জেনারেল হিসেবে পরিচিতি দিতেও কুণ্ঠা করছেন না।