প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীনের হাইনান প্রদেশে অনুষ্ঠিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া (বিএফএ) সম্মেলনের উদ্বোধনী ভাষণে এশীয় দেশগুলোর উন্নয়নে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। বলেছেন, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও যৌথ সমৃদ্ধির জন্য এ এলাকার দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জলবায়ু সমস্যা সম্পর্কেও তিনি সম্মেলনে আলোকপাত করেছেন। বলেছেন, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে জলবায়ু দুর্যোগজনিত অর্থনৈতিক ক্ষতি ৬ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমতুল্য। বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে সম্পদ ব্যবহার করে দুর্যোগ মোকাবিলায় বাধ্য করা হচ্ছে। এর ফলে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ সীমিত হয়ে পড়ছে। বিএফএ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত বক্তব্য খুবই প্রাসঙ্গিক ও তাৎপর্যের দাবিদার। এটি এখন অস্তিত্বের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনে বিশ্বের সমুদ্র তীরবর্তী সব দেশই কম-বেশি হুমকির সম্মুখীন। বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য বিপদ অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি। বাংলাদেশের আয়তন ১ লাখ ৪৮ হাজার বর্গকিলোমিটারের চেয়েও কম। এই স্বল্প আয়তনের দেশে ১৮ কোটি মানুষের বসবাস। বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এই দেশের অধিবাসীরা মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের উপকূল ভাগের লাখ লাখ মানুষ ইতোমধ্যে উদ্বাস্তুর ভাগ্যবরণ করতে বাধ্য হচ্ছে। এই অশুভ পরিবর্তন দেশকে কী ঝুঁকির মুখে ফেলতে যাচ্ছে সে সম্পর্কে জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞদের মতামত স্মর্তব্য। তাদের আশঙ্কা, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আগামী ৫০ বছরের মধ্যে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে বাংলাদেশ। উপকূলভাগের জেলাগুলো সমুদ্রের লোনা পানিতে নিমজ্জিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে কৃষি ও মৎস্য চাষসহ সাধারণ মানুষের জীবনজীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জলবায়ু পরিবর্তন ঘটছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর অপরিণামদর্শী আচরণে। অথচ এ সমস্যা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলো কোনো দায়িত্ব নিতে নারাজ। তারা সমস্যা মোকাবিলায় ঋণ দিতে রাজি হলেও অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নে কৃপণতার আশ্রয় নিচ্ছে। জলবায়ু সমস্যার পাশাপাশি এশীয় দেশগুলো নিজেদের উন্নত ভবিষ্যৎ রচনায় একসঙ্গে কাজ করলে তা সবার জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে। এটি এখন সময়ের দাবি।