মানুষের জানমালের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে দুর্বৃত্তদের ভয়াল থাবায়। ঈদের ছুটিতে রাজধানী ত্যাগ করবে অন্তত এক কোটি মানুষ। এ সময় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বেড়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কা দানা বেঁধে উঠেছে জনমনে। তবে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে যেকোনো মূল্যে ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে অপরাধীরা যাতে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। ঈদ সামনে রেখে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার বিপুলসংখ্যক সদস্যের সমন্বয়ে গড়ে তোলা হয়েছে এ নিরাপত্তাবলয়। ডিএমপি ও র্যাবপ্রধানের বিশেষ নির্দেশনা ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছানো হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে। নেওয়া হয়েছে বাড়তি নজরদারিও। থাকবে চেকপোস্ট। সন্দেহভাজন ব্যক্তি, গাড়ি, ব্যাগ মেটাল ডিটেকটর, ভেহিক্যাল স্ক্যানার ও ম্যানুয়াল চেকিংয়ের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। নাড়ির টান আর প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়ছে অসংখ্য মানুষ। কিন্তু এত নিরাপত্তার মধ্যেও ঈদের ছুটিতে ভয় কাজ করছে নগরবাসীর মধ্যে। রাজধানীতে বেপরোয়া চুরি-ছিনতাই-ডাকাতি তাদের এ ভয়ের অন্যতম কারণ। এরই মধ্যে ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়াকে কেন্দ্র করে এ ভয় জেঁকে বসেছে। নিরাপত্তা আশঙ্কা দূর করতে ঈদে ছিনতাই, ডাকাতি, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ ঠেকাতে রাতে বাড়ানো হবে পুলিশি টহল। পুরান ঢাকা ছাড়াও মহানগরীর বিভিন্ন এলাকার জুয়েলারি মার্কেটে থাকবে পুলিশের কড়া নজরদারি। ঈদ সামনে রেখে নিরাপত্তাবলয় সৃষ্টির প্রয়াস নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। স্বীকার করতেই হবে, জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে সর্বক্ষেত্রে অধিকতর ভালো ও নিরাপদ থাকার যে আশাবাদ গড়ে উঠেছিল, সমাজবিরোধীদের তৎপরতায় তা ম্লান হতে চলেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে আস্থার সংকট বিরাজ করায় তা দুর্বৃত্তদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করছে। আমরা আশা করব, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অপরাধী যারাই হোক, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।