ভিসা ও মাস্টারকার্ড ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী ইলেকট্রনিক পেমেন্ট, কেনাকাটা, এটিএম বুথ থেকে টাকা তোলা, মোবাইল রিচার্জ এখন আধুনিক জীবনেরই অনুষঙ্গ। কিন্তু ধুরন্ধর প্রতারক চক্র ফাঁদ পেতে রেখেছে সেখানেও। আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেটওয়ার্ক ভিসা ও মাস্টারকার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। কৌশলে গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে জাল কার্ড তৈরি করে টাকা তুলে নিচ্ছে চোরচক্র। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন গ্রাহক। এ ঝুঁকিতে প্রত্যেক কার্ডধারী।
জালিয়াত চক্র ব্যাংকের বুথে ডিভাইস এবং ভিডিও ক্যামেরা বসিয়ে টাকা জমা ও তোলার সময় গ্রাহকের কার্ডের তথ্য হাতিয়ে নেয়। এর মাধ্যমে তারা লাখ লাখ টাকা তুলে নিতে পারে। চক্রটি যদি এসব কার্ড বিদেশে পাঠিয়ে দেয়, তাহলে দেশে যতই ব্যবস্থা নেওয়া হোক, বিদেশে বুথ থেকে তারা খুব সহজেই বিদেশি মুদ্রায় অর্থ তুলে নিতে পারবে। যা দেশের ভিতর থেকে ঠেকানো যাবে না। ফলে ভিসা ও মাস্টারকার্ড ব্যবহারকারীরা কখনোই এ ক্ষেত্রে নিরাপদ নন। স্বভাবতই বিষয়টি উদ্বেগের। যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রতিহত করা না হলে, এদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। ফলে প্রতারকদের বিরুদ্ধে আইনগত ও ডিজিটাল প্রতিরোধের নি-িদ্র ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ পরিপ্রেক্ষিতে জালিয়াতি রোধে, আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার কমিয়ে, স্থানীয় পেমেন্ট গেটওয়ে, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে জালিয়াতি বন্ধের পাশাপাশি কার্ড কোম্পানিগুলোকে লেনদেনের বার্ষিক চার্জ হিসেবে দেয় ২০ কোটি টাকার সাশ্রয় হবে। এ উদ্যোগ অবশ্যই সাধুবাদযোগ্য। তবে ব্যবহারকারীদেরও অধিকতর সতর্ক হতে হবে। তাদের মোবাইল ফোনে আসা এসএমএসের প্রতি খেয়াল রাখা খুব জরুরি। তার অজ্ঞাতে কোনো লেনদেনের মেসেজ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কল সেন্টারকে অবহিত করে কার্ড ব্লক করে দিতে হবে। তবে কার্ডটি বিদেশে চলে গেলে প্রথম লেনদেন কিছুতেই ঠেকানো যাবে না। ফলে গ্রাহকের প্রাথমিক ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষায়, দেশের নিজস্ব পেমেন্ট স্কিম, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ (এনপিএসবি) যথেষ্ট শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। সেই কাজটি এখন করতে হবে।