শশুর বাড়িতে শাশুড়ির গায়ে পেট্রল দিয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামাই মেহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ শাশুড়িকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বুধবার দিনাজপুরের বিরামপুর পৌরশহরের ৫নং ওয়ার্ডের পূর্বপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত জামাই মেহেদুল ইসলাম বিরামপুর উপজেলার হাবিবপুর এলাকার আজিবর রহমানের ছেলে।
জানা যায়, বিরামপুরের পূর্বপাড়া মহল্লার আফজাল হোসেন ও বুলি বেগম দম্পতির মেয়ে শিল্পী বেগমের সঙ্গে একই উপজেলার হাবিবপুর গ্রামের আজিবর রহমানের ছেলে মেহেদুলের প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে হয়। তাদের ঘরে তিন সন্তান রয়েছে। জামাই মেহেদুল তার স্ত্রীর এক ভাইয়ের অটোরিকশা ভাড়ায় নিয়ে চালাতেন।সম্প্রতি সেই অটোরিকশা ভেঙে গেলে সেটি শ্বশুরবাড়িতে দিয়ে যায়। অটোরিকশার মালিক সেটি মেরামত করে অন্য চালকের নিকট ভাড়া দিলে জামাইয়ের সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মতবিরোধ দেখা দেয়। এর মধ্যে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে শাশুড়ির নাকফুল হারানোর দোষ পড়ে জামাইয়ের ওপর। এসব নিয়ে শাশুড়ির উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন জামাই। পরে ২ এপ্রিল সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জামাই মেহেদুল তার শাশুড়িকে ফোন করে বাড়ির বাইরে ডেকে নেন। সেখানে শাশুড়ির (৬০) গায়ে পেট্রল ঢেলে দিয়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।
বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মশিউর রহমান জানান, আগুনে নারীর মাথা ও মুখ ছাড়া পুরো শরীরই ঝলসে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।পরে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো হয়েছে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
বিরামপুর থানা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অগ্নিদগ্ধ নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/এএম