ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মায়ের হারানো ব্যাগ ফিরিয়ে দিয়ে তার শিশু বাচ্চাকে চুরি করে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় শহরের আল খলিল হাসপাতাল থেকে সাউদা হোসেন সারা নামের চার বছরের ওই শিশুকে চুরি করে নিয়ে যায় অজ্ঞাত এক নারী। তবে নিখোঁজের দুই ঘণ্টা পর এক সিএনজি অটোরিকশা চালক শিশুটিকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, জেলার বিজয়নগর উপজেলার বাড়ঘরিয়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী ইমাম হোসেনের মেয়ে সাউদা জাহান সারা। দুপুরে সাউদার ছোট ভাইকে চিকিৎসা দিতে আল খলিল হাসপাতালে আসেন মা স্মৃতি চৌধুরী ও নানী সাহানা আক্তার। সেখানে স্মৃতি চৌধুরীর একটি ব্যাগ হারিয়ে গেলে তা খুঁজে দেয় অজ্ঞাত এক নারী। এরপর তাদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলে। এক পর্যায়ে তাদের বিশ্বাস অর্জন করে শিশুটিকে দেখে রাখার কথা বলে সাউদার মা ও নানীকে চিকিৎসকের কক্ষে যেতে বলেন। পরে কক্ষ থেকে বেরিয়ে তারা আর শিশুটিক খোঁজে পাচ্ছিলেন না। এ সময় সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অজ্ঞাত ওই নারী শিশুটিকে তার সঙ্গে নিয়ে গেছে। এরপর পুলিশে খবর দিলে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে। এক পর্যায়ে সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে আনিস মিয়া নামে এক সিএনজি অটোরিকশা চালক।
সিএনজি অটোরিকশা চালক জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের আনিস মিয়া বলেন, ওই নারী আশুগঞ্জ থেকে আমার সিএনজি অটোরিকশা রিজার্ভ নিয়ে সদর উপজেলার সুহিলপুরে নিয়ে আসে। সেখানে তিনি নেমে যান এবং বাচ্চাটিকে আল খলিল হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে। পরে আমি শিশুটির সঙ্গে কথা বলি সে ওই নারীকে চেনে কি না। কিন্তু বাচ্চাটি ওই নারীকে চেনে না বলে জানায়। এরপর শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। এসে তার পরিবারের লোকজনদের কাছে বুঝিয়ে দিই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফ্ফর হোসেন জানান, খবর পেয়ে জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চৌকি স্থাপন করে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই মাঝে একজন অটোরিকশা চালক শিশুটিকে উদ্ধার করে ওই হাসপাতালে নিয়ে আসে। অজ্ঞাত ওই নারী আশুগঞ্জ থেকে শিশুটিকে নিয়ে অটোরিকশায় উঠে। সেখান থেকে সদর উপজেলার সুহিলপুর এলাকায় এসে সিএনজি থেকে নেমে যায় এবং শিশুটিকে আল খলিল হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে।
তিনি আরও বলেন, শিশুটির পরনে থাকা স্বর্ণের কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেগুলো উদ্ধার এবং অজ্ঞাত ওই নারীর পরিচয় সনাক্তে চেষ্টা চলছে।
বিডি প্রতিদিন/একেএ