অপহরণের নয় দিনেও উদ্ধার হয়নি বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের আলোরকোল শুঁটকি পল্লীর ১৫ জেলে। ২৬ জানুয়ারি গভীররাতে বঙ্গোপসাগরের মান্দারবাড়িয়া এলাকায় তাদের অপহরণ করে বনদস্যু মজনু বাহিনী। একেক জেলের মুক্তিপণ হিসেবে দাবি করেছে ৩ লাখ টাকা। অপহৃত জেলেদের মহাজন ও পরিবারের সঙ্গে কথা বলে গতকাল এ তথ্য জানা গেছে। তারা জানান, ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধ না করায় জিম্মিদের নির্যাতন করা হচ্ছে। ঠিকমতো খেতে দেওয়া হচ্ছে না তাদের। দাবি করা টাকা দ্রুত না দিলে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে জেলেদের। সুন্দরবনের অজ্ঞাত স্থান থেকে দস্যুদের মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে কান্নাকাটি করছেন জেলেরা। জিম্মিদশা থেকে দ্রুত ছাড়িয়ে নেওয়ার আকুতি জানাচ্ছেন।
মহাজনরা বলছেন, চারটি শুঁটকি পল্লীতে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়। দুর্গম চরে তাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। যেকোনো সময় দস্যু এসে লুটপাট করলে তাদের কিছুই করার থাকবে না।
দুবলার চর ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, জেলে অপহরণের আট দিন পার হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান অভিযান দেখছি না। এতে আমরা হতাশ হচ্ছি। ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি কমাল আহমেদ বলেন, জিম্মি জেলেদের মা, বাবা, স্ত্রী, সন্তানরা প্রতিদিন মহাজনদের বাড়িতে গিয়ে কান্নাকাটি করছেন। দস্যুরা বারবার মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করছে। এসব নম্বর র্যাব, কোস্ট গার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে দেওয়া হয়েছে। বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ নুরুল করিম জানান, ১৫ জেলেকে উদ্ধারে বনবিভাগ কোস্টগার্ড ও র্যাব কাজ করছে।