নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী চাকরি স্থায়ীকরণসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংকের দৈনিকভিত্তিক পিয়ন-কাম-গার্ডরা। একই সঙ্গে আগামী সাত দিনের মধ্যে দাবি পূরণে কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে গ্রামীণ ব্যাংক চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফরিদপুর জোনে কর্মরত আহসান হাবিব বলেন, ব্যাংকের বৈষম্য দূর করতে ২০১২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে আমরা আন্দোলন করে আসছি। আমরা বিভিন্ন সময়ে কর্তৃপক্ষ বরাবর স্মারকলিপি পেশ, মিছিল-মিটিং, সমাবেশ, সুধী সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করেছি।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে দাবি আদায়ের কর্মসূচি পালন করার অপরাধে গ্রামীণ ব্যাংকও আমাদের অনেক সহযোদ্ধাদের চাকরিচ্যুত, বদলির হুমকি-ধমকি দেয়। আমাদের চাকরি স্থায়ী না হলেও প্রতিষ্ঠান আমাদের স্থায়ী কর্মীর মতো করে বদলি এবং চাকরিচ্যুত করে।
গ্রামীণ ব্যাংকে কর্মরত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পাঁচ দফা দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে দৈনিক ভিত্তিতে পিয়ন-কাম-গার্ড হিসেবে কর্মরত কর্মচারীদের নিয়োগের ৯ মাস পর থেকে সার্কুলার অনুযায়ী স্থায়ীকরণ এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরিও স্থায়ীকরণ করতে হবে। নিয়োগপত্র, ছবিসহ পরিচয়পত্র, সবেতনে সব প্রাপ্ত ছুটি, বোনাসসহ বাংলাদেশের শ্রম আইন ও আন্তর্জাতিক শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্ত অধিকার দিতে হবে। গ্রামীণ ব্যাংকের চাকরিবিধি অনুযায়ী মাসিক বেতন, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন, গ্র্যাচুইটি, ঋণ সুবিধাসহ সামাজিক নিরাপত্তার যাবতীয় সুবিধা দিতে হবে। আন্দোলন ও সংগঠন দমনে শাস্তিমূলক ছাঁটাই, বদলি বন্ধ করতে হবে। আন্দোলনের কারণে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল করতে হবে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। চাকরি স্থায়ীকরণ করে নিয়োগের শুরু থেকে অদ্যাবধি সব ধরনের প্রাপ্য পরিশোধ করতে হবে।
এ সময় তারা আগামী ১ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলা ও জোন পর্যায়ে মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধন, কর্মবিরতি কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি আগামী সাত দিনের মধ্যে দাবি পূরণে কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নিলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।