তিন বছরের ব্যবধানে ফের পানির দাম বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু করেছেন রাজশাহী পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা)। এর মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পানির দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। গত বছরের ১৬ অক্টোবর ওয়াসার ১৬তম বোর্ড মিটিংয়ে দাম ৩০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশের সিদ্ধান্ত হয়। ওয়াসার দাবি, পানির দাম বাড়ানো হলেও তা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের চেয়ে কম থাকবে। এদিকে, দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন নাগরিক সংগঠনের নেতারা।
তথ্যমতে, ১২৩টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি উত্তোলন করে তা পাইপলাইনে সরবরাহ করছে ওয়াসা। নগরীতে পানির চাহিদা প্রতিদিন ১৩ কোটি লাখ লিটার। তবে ওয়াসা ৮৫৯ কিলোমিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক ১০৭ কোটি লিটার সরবরাহ করতে পারে। বর্তমানে ওয়াসার মোট পানির সংযোগ আছে ৪৯ হাজার ২৪৮টি। আবাসিক ৪৮ হাজার ৫২৭ ও বাণিজ্যিক ৭২১। এসব লাইনের মাধ্যমে বছরে ২ দশমিক ৫৩ কিলো লিটার পানি বিক্রি করে সংস্থাটি।
রাজশাহী ওয়াসার তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংস্থাটির লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি টাকা; যার পুরোটাই সরকার ভর্তুকি দেয়। অন্যদিকে, শুধু সিস্টেম লসের কারণে ওয়াসার বার্ষিক লোকসান প্রায় ১০ কোটি টাকা। বর্তমানে এ লোকসান থেকে উত্তরণ পেতেই পানির মূল্য বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী ওয়াসার উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাদিম সারওয়ার বলেন, ‘এখনই দাম বৃদ্ধি হচ্ছে না। আমরা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠিয়েছি। দাম বৃদ্ধি করা না করা তাদের ওপর নির্ভর করছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই।’
এদিকে, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, ‘সংস্থাটি অতীতেও পানির দাম একসঙ্গে তিন গুণ বৃদ্ধি করেছে। তখনো আমরা বাধা দিয়েছি। কিন্তু তারা রাজশাহীবাসীকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তখন কিছু রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে মিলে এটি কার্যকর করেছেন। তারা যদি আবারও পানির মূল্য বাড়ায় তবে নগরবাসী এক হয়ে ওয়াসা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবে। কঠোর আন্দোলন হবে।’