ময়মনসিংহের নান্দাইলে দেড় বছর আগে অতি দরিদ্র পরিবারের ২০ নারীকে বিনামূল্যে তিন মাসের সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়েছিল বসুন্ধরা শুভসংঘ। প্রশিক্ষণ শেষে অসচ্ছল এ নারীদের স্বাবলম্বী করতে বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে তাদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ইমদাদুল হক মিলন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে পাওয়া সেলাই মেশিনে স্বাবলম্বী হয়েছেন প্রত্যেকেই। পরিবারের অভাব ঘুচিয়েছেন, কেউ কেউ এখন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন। এদিকে গত দুই মাস ধরে নতুন করে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন আরও ২০ নারী ও কিশোরী। তাদের প্রায় প্রত্যেকেই অতি দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থী। এখন তারা অপেক্ষায় আছেন কখন হাতে আসবে একটি সেলাই মেশিন। যা দিয়ে ভাগ্যের পরিবর্তন করবেন তারা। দাঁড়াতে পারবেন নিজের পায়ে। এ জন্য নিচ্ছেন প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ। বর্তমানে যারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তাদের সামনে এখন উদাহরণ আগে সেলাই মেশিন পাওয়া নারীরা। ২০২৩ সালের ১৭ জুন প্রশিক্ষণ শেষে ২০ নারীকে দেওয়া হয়েছিল সেলাই মেশিন। বিনামূল্যে মেশিন পেয়ে অতি দরিদ্র নারীরা এ মেশিনকে সম্পদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সারা দিন পার করছেন কর্মব্যস্ততায়। ঘরেই তৈরি করছেন নিজেদের প্রয়োজনীয় জামাকাপড় ছাড়াও প্রতিবেশীদের অর্ডারি কাজ। বাজার থেকে কাপড় কিনে এনে নানান ধরনের পোশাক তৈরি করে বাজারজাতও করছেন। প্রতি মাসে আয় করছেন সংসার চালানোর মতো টাকা। যা দিয়েই অভাব দূর হয়েছে। হাসি ফুটেছে পরিবারের মুখে। এলাকার সাদিয়া, রিমা, জ্যোতি, সাফিয়া ও পূর্ণিমা এখন নিজেদের কাজ ছাড়াও এলাকার অন্যদেরও কাজ শেখাচ্ছেন। পোশাক তৈরি করে পাইকারি বিক্রি করছেন অনেকেই। তাদের আয় রোজগার দেখে অনেকেই উৎসাহিত হয়ে নিজেরাই উদ্যোক্তা হচ্ছেন।
গতবারের সেলাই মেশিন পাওয়া নারীদের এমন অবস্থা দেখে এবারের প্রশিক্ষণ নেওয়া নারীরা খুবই উচ্ছ্বসিত। নতুন উদ্যমে কাজ শিখছেন তারা। স্বপ্ন দেখছেন জীবনে ভালো কিছু করার। যারা পড়াশোনা করছেন তারা জানান, পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ঠিকমতো পড়তে পারছিলেন না। নিজের পড়ার খরচ নিজে চালাবেন এ আশায় তারা বসুন্ধরা শুভসংঘ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন। এখানে সফলভাবে সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে বিনামূল্যে একটি সেলাই মেশিন দেবে বসুন্ধরা গ্রুপ। সেই মেশিনেই স্বপ্ন বুনবেন তারা। সেলাইয়ের আয়ে পড়বেন, এক সময় নিজেরা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হবেন এমনই আশা সবার।