রংপুর সিটি করপোরেশনের দামোদরপুর বড় ময়দানসংলগ্ন ঘাঘট নদের ওপর একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশ-কাঠের সেতু রয়েছে। নদের এক পারে ১২ নম্বর ওয়ার্ড, অন্য পারে ১৩ নম্বর ওয়ার্ড। প্রতিদিন তিন-চার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে চলাচল করে। এ ছাড়া চলে পাঁচ শতাধিক মোটরসাইকেল। এ গ্রামকে দেখলে মনে হবে না এটি রংপুর মহানগরের একটি অংশ। এখানকার নারীরা এখনো নদনির্ভর। তারা ঘাঘট নদের পারে কাপড়কাচা থেকে ধোয়ামোছা অনেক কিছু করেন। নারী-পুরুষ গোসল করেন নদে। তবে নগরের মধ্যে থেকেও গ্রামীণ আবহে এক ধরনের যন্ত্রণা অনুভব করছেন তাঁরা। স্থানীয়দের দাবি দ্রুত কাঠের সেতুটি ভেঙে সেখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের।
স্থানীয়রা জানান, শুকনো মৌসুমে নদে যখন হাঁটুপানি থাকত তখন লোকজন হেঁটেই পার হতো। বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৬ কিলোমিটার ঘুরে নজিরের হাট দিয়ে চলাচল করত দুপারের মানুষ। ঈদ-পর্ব অথবা কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানে নৌকা ভাড়া করে পারাপার হতো লোকজন।
একসময় বাঁশের ক্যাচি সাঁকো তৈরি করে চলাচল করত। দুই বছর আগে দুই এলাকার মানুষের অর্থায়নে তৈরি করা হয় এ কাঠের পুলটি। এটি এখন নড়বড়ে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী ও দামোদরপুর বড় ময়দান ঈদগাহ মাঠের সভাপতি আবদুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক সামসুল আজম, সহসাধারণ সম্পাদক ইভা মাসুমসহ অনেকেই বলেন, ঘাঘট নদ দুই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের পৃথক করে দিয়েছে। সিটি করপোরেশনে থেকেও মনে হয় প্রত্যন্ত গ্রামে বাস করছি। সেতুটি যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে। এ সেতুর ওপর দিয়ে দুই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে। সেতুটি ভেঙে পড়লে দুই এলাকার মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে। তাই বাঁশের সেতুটির স্থানে পাকা সেতু নির্মাণের জন্য এলাকাবাসী রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলামের সহযোগিতা চেয়েছেন।