২০২০ সালে ভারত নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ডেটা গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে প্রায় ২৬৭টি চীনা অ্যাপ নিষিদ্ধ করে।
গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সীমান্ত উত্তেজনার প্রতিক্রিয়ার জেরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ২০২৫ সালে এই অ্যাপগুলির অনেকগুলোই তাদের আসল রূপে অথবা বিভিন্ন ছদ্মনামে ফিরে এসেছে। বর্তমানে পূর্বে নিষিদ্ধ অ্যাপগুলোর মধ্যে কমপক্ষে ৩৬টি এখন গুগল প্লে স্টোর এবং অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে ডাউনলোডের জন্য পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে কিছু অ্যাপ তাদের আসল পরিচয় ধরে রেখেছে, আবার কিছু অ্যাপের ব্র্যান্ডিং, লোগো বা মালিকানার বিবরণে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই অ্যাপগুলো গেমিং, শপিং, বিনোদন, ফাইল শেয়ারিং এবং কন্টেন্ট তৈরিসহ বিভিন্ন বিভাগের অন্তর্গত।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় অ্যাপ স্টোরগুলোতে ফিরে আসা অ্যাপগুলোর মধ্যে ফাইল-শেয়ারিং পরিষেবা জেন্ডার, স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ম্যাঙ্গোটিভি এবং ইউকু, শপিং অ্যাপ তাওবাও এবং ডেটিং অ্যাপ ট্যান্টান উল্লেখযোগ্য। যদিও ম্যাঙ্গোটিভি অপরিবর্তিত রয়েছে, অন্যগুলো সামান্য পরিবর্তন করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, জেন্ডার এখন অ্যাপলের অ্যাপ স্টোরে জেন্ডার হিসেবেই তালিকাভুক্ত। একইভাবে, তাওবাও এখন মোবাইল তাওবাও নামে পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে এশিয়ান ডেটিং অ্যাপ ট্যানটানকেও রিব্র্যান্ড করা হয়েছে। মজার বিষয় হলো, যদিও এই অ্যাপগুলোর মধ্যে কিছু তাদের মূল চীনা ডেভেলপারদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, অন্যরা ভারতীয় বাজারে পুনরায় প্রবেশের জন্য বিভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। জনপ্রিয় ফ্যাশন অ্যাপ শাইন, রিলায়েন্সের সাথে একটি লাইসেন্সিং চুক্তির মাধ্যমে ফিরে এসেছে। ভারত সরকার নিশ্চিত করেছে যে, শাইন সম্পর্কিত সমস্ত ব্যবহারকারীর ডেটা এখন ভারতের মধ্যেই সংরক্ষণ করা হবে, চীনা মূল কোম্পানির সাথে এর কোনও অ্যাক্সেস নেই। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, অনেক অ্যাপের ক্লোন সংস্করণ এখনও দেখা যাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে, ডেভেলপাররা মূল কার্যকারিতা অক্ষুণ্ণ রেখে সামান্য পরিবর্তন করে তাদের অ্যাপগুলোকে পুনরায় ব্র্যান্ড করেছেন।
উদাহরণস্বরূপ, PUBG মোবাইল ২০২০ সালে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল কিন্তু ২০২১ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ক্রাফটনের অধীনে ব্যাটলগ্রাউন্ডস মোবাইল ইন্ডিয়া (BGMI) নামে ফিরে আসে। এই সংস্করণটিও ২০২২ সালে আবার নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হয়েছিল, তবে সুরক্ষা এবং সম্মতি মান পূরণের পরে ২০২৩ সালে এটিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এই অ্যাপগুলোর উপস্থিতিই স্পষ্ট করে যে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা কতটা কঠিন। কিছু ফেরত আসা অ্যাপে এখন ভারত, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া, সেশেলস, জাপান এবং বাংলাদেশের মালিকানা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে তাদের উৎপত্তিস্থল ট্র্যাক করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
বিডি প্রতিদিন/একেএ