বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেট শুরু হয় ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সে সময় ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট নিয়ে ছিল দারুণ উৎসাহ-উদ্দীপনা। একটা টিকিটের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতেন তারা। ক্রিকেটারদের ধুম-ধাড়াক্কা ব্যাটিং আর বোলিং দেখে মনের সব দুঃখ ভুলে আনন্দে মেতে উঠতেন তারা। কিন্তু নানা ঘটনা-দুর্ঘটনায় সেই বিপিএল নিয়ে আগ্রহ কমতে থাকে। গত কয়েক বছরে টুর্নামেন্টের জনপ্রিয়তা ছিল ভাটার দিকে। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই এবার নতুন উদ্যমে শুরু হয় বিপিএল। নানা আয়োজনে গত কয়েক মাস ধরেই টুর্নামেন্টের আকর্ষণ বাড়তে থাকে। এটা কাজেও দেয় অনেকাংশে। টিকিটের জন্য আবারও যুদ্ধ করতে দেখা যায় সমর্থকদের। মাঠে তাদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকায় বিপিএলের প্রথম পর্বে ৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দু-একটা ব্যতিক্রম ছাড়া দর্শকরা স্টেডিয়ামপাড়া সরগরম করে রাখেন। টিকিট না পেয়ে দুর্ঘটনাও ঘটিয়েছেন অনেকে। ঢাকায় প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে কয়েক দিন আগে। আজ থেকে বিপিএলে শুরু হচ্ছে সিলেট পর্ব। রংপুর রাইডার্স-সিলেট স্ট্রাইকার্স ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বিপিএলের দ্বিতীয় পর্ব।
রংপুর রাইডার্স চলমান বিপিএলে ঢাকা পর্বে তিনটি ম্যাচ খেলেছে। তিনটিতেই পেয়েছে বড় জয়। নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা ঢাকা ক্যাপিটালসকে হারিয়ে দেয় ৪০ রানে। এরপর সিলেট স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে অল্প পুঁজি (১৫৫) নিয়েও ৩৪ রানের দারুণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন নুরুল হাসান সোহানরা। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বিপিএলের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশালকে পাত্তাই দেয়নি রংপুর রাইডার্স। নাহিদদের দুরন্ত বোলিংয়ের সামনে মাত্র ১২৪ রানেই গুটিয়ে যায় বরিশাল। ১২৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৫ ওভার হাতে দারুণ তিনটি জয় নিয়ে ঢাকা পর্ব শেষ করে সিলেটে গিয়েছে রংপুর রাইডার্স। চায়ের রাজ্যে অনুশীলনও করেছে দলটি। সিলেট পর্বেও জয়ের ধারা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে আজ।
এদিকে সিলেট স্ট্রাইকার্স ঢাকা পর্বে কেবল একটি ম্যাচ খেলেছে। রংপুর রাইডার্সে বিপক্ষে খেলা সেই ম্যাচে পরাজিত হয়েছে দলটি। তবে সিলেট পর্বে ঘুরে দাঁড়াতে পারে তারা। সেখানে তাদের সমর্থকও থাকবে অনেক। বিপিএলের দ্বিতীয় পর্বে পাঁচটি ম্যাচ খেলবে সিলেট স্ট্রাইকার্সে। আজ প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হবে রংপুর রাইডার্সের। কাল ফরচুন বরিশাল, ১০ জানুয়ারি ঢাকা ক্যাপিটালস, ১২ জানুয়ারি খুলনা টাইগার্স এবং ১৩ জানুয়ারি চিটাগং কিংসের মুখোমুখি হবে সিলেট স্ট্রাইকার্স।
সিলেট পর্বে রংপুর রাইডার্স ম্যাচ খেলবে চারটি। আজ সিলেট স্ট্রাইকার্সের মুখোমুখি হওয়ার পর দলটি কাল খেলবে ঢাকা ক্যাপিটালসের সঙ্গে। এরপর ৯ জানুয়ারি ফরচুন বরিশাল এবং ১৩ জানুয়ারি খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে খেলবে রংপুর রাইডার্স। সিলেট পর্ব থেকেই প্লে-অফ নিশ্চিত করতে পারে রংপুর রাইডার্স। টানা তিন ম্যাচ জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে তারাই আছে শীর্ষে। সামনের চার ম্যাচে জয় পেলে শীর্ষ চার অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে দলটির। ঢাকায় বিপিএলের প্রথম পর্বে রংপুরের পর দ্বিতীয় সফল দল খুলনা টাইগার্স। তারা দুই ম্যাচ খেলে দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে চিটাগং কিংসকে এবং দ্বিতীয় ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসকে হারিয়েছে খুলনা। অবশ্য সিলেট পর্বে অনেক কিছুই বদলে যেতে পারে। অন্যতম ফেভারিট ফরচুন বরিশাল ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তাছাড়া দুর্বার রাজশাহী এবং চিটাগং কিংসও এগিয়ে যেতে পারে। সিলেট পর্বে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো বিকল্প নেই ঢাকা ক্যাপিটালসের। দলটি টানা তিন ম্যাচ হেরেছে।
সিলেট পর্বে ১২টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এই ১২ ম্যাচে অনেক দলেরই ভাগ্যের চাকা ঘুরে যেতে পারে। দেখা যাক, কী অপেক্ষা করছে বিপিএলের দ্বিতীয় পর্বে!