পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন শেষে রাজধানীতে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ। দীর্ঘ ৯ দিনের ঈদের ছুটি শেষ হয়েছে গতকাল। আজ প্রথম কর্মদিবস। তাই অধিকাংশ সরকারি চাকরিজীবী গতকালই রাজধানীতে ফিরেছেন। গতকাল ট্রেন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়। গতকাল সরেজমিন সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দেখা যায়, ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছে যাত্রীতে পরিপূর্ণ দূরপাল্লার বাসগুলো। পথে ভোগান্তি ছাড়াই ঢাকায় ফিরতে পেরে খুশি যাত্রীরাও। আবার ঢাকার বাইরে কর্মরতদেরও গন্তব্যে রওনা করতে দেখা যায়। তবে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার সময় গাড়িগুলো কিছুটা ফাঁকা দেখা গেছে। পদ্মা সেতু হয়ে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে আসা দূরপাল্লার গাড়ির জট দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় আরও বাড়বে বলে জানান বিভিন্ন বাস কাউন্টারের কর্মীরা। এবারের ঈদের যাত্রা তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ এবং ভোগান্তি ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান ঢাকায় ফেরা যাত্রীরা।
খুলনা থেকে আসা যাত্রী নীলিমা শারমিন বলেন, খুলনা থেকে মাত্র পাঁচ ঘণ্টায় ঢাকায় চলে এসেছি। রাস্তা ফাঁকা, কোনো ধরনের ভোগান্তি হয়নি। এবার ঈদের ছুটি লম্বা হওয়ায় পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ বেশি সময় ধরে উপভোগ করা গেছে। ফলে ঢাকায় এলাম ঈদের আনন্দ নিয়ে। বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে না। তবে কাউন্টারগুলোতে অগ্রিম টিকিট কাটার সময় টিকিটপ্রতি ৫০ টাকা ‘বকশিশ’ দিতে হয়েছে।

রেলস্টেশনেও ভিড় : কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা গেছে ঢাকা ফেরা মানুষের ভিড়। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সকালে কমলাপুরে আসা প্রতিটি ট্রেনে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। সড়কপথে বাড়তি ভোগান্তির (যানজট) আশঙ্কায় কর্মজীবীরা ট্রেনকেই বেছে নিয়েছেন। ঈদের আগে-পরে শিডিউল বিপর্যয়ও ছিল না। এতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করেছেন যাত্রীরা। তবে গতকাল কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেন দেরিতে পৌঁছানোর কারণে লালমনিরহাট অভিমুখী বুড়িমারী এক্সপ্রেস তিন ঘণ্টা এবং রংপুর অভিমুখী রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন এক ঘণ্টা ২০ মিনিট বিলম্বে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যায়। অন্যদিকে ট্রেনেও কিছু মানুষকে ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে।

লঞ্চঘাটে ছিল উপচে পড়া ভিড় : গতকাল সকাল থেকে লঞ্চযোগে আসা মানুষের চাপ ছিল সদরঘাটে। লঞ্চকর্মীরা বলেছেন, গত দুই দিনের চেয়ে আজ (শনিবার) ভিড় বেশি। ঢাকায় ফেরা প্রায় সব লঞ্চ যাত্রীদের রেখে আবার বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা-উপজেলার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। ফলে টার্মিনালে মানুষের ভিড় ও কিছুটা দুর্ভোগ লক্ষ্য করা গেছে। টার্মিনাল থেকে নেমে দীর্ঘ পথ হেঁটে যানবাহনে উঠতে হয়েছে যাত্রীদের। বাংলাদেশ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে সকাল ৮টা পর্যন্ত ৭০-৭৫টি লঞ্চ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ঢাকায় এসেছে। ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ সামলাতে প্রায় সব লঞ্চ যাত্রী রেখে আবার বরিশালের দিকে চলে গেছে। বিআইডব্লিটিএর কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, ভোর থেকে লঞ্চগুলো যাত্রীবোঝাই হয়ে ঢাকায় আসে। লম্বা ছুটি ছিল, এ কারণে মানুষ ধাপে ধাপে ফিরেছে। গত দুই দিনের তুলনায় আজ (শনিবার) যাত্রীর চাপ কিছুটা বেড়েছে।