সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেছেন, বাংলাদেশ একটি তৈরি পোশাকনির্ভর রপ্তানিকারক দেশ, তাই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা এ ধরনের আশঙ্কাই করতে পারি। শুধু তৈরি পোশাক নয়, আমরা আরও অনেক পণ্য রপ্তানি করি। গত কয়েক বছরে কৃষি, চামড়াজাত পণ্য ও ফার্মাসিউটিক্যালস রপ্তানি বেড়েছে, সেখানেও বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারি। সেলিম রায়হান বলেন, শুল্ক সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিকভাবে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। শুধু বাণিজ্যিক নয়, কূটনৈতিকভাবেও যুক্ত হতে হবে। পাল্টা শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে যে ধোঁয়াশা রয়েছে সেগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে বলে আমার মনে হয়। তিনি আরও বলেন, অবশ্যই আমাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তৈরি পোশাকের ওপর অতি নির্ভরতা কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সুতরাং আমাদের তৈরি পোশাকের বাইরে অন্যান্য যে খাত আছে সেখানে জোর দিতে হবে। বিষয়টি আমরা দীর্ঘদিন ধরে বললেও কোনো অগ্রগতি নেই। প্রতিযোগিতার সক্ষমতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা হলো অবকাঠামোগত, দক্ষ শ্রমিক ও উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে। এ ছাড়া নানা রকম দুর্নীতি ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তো আছেই। আমরা জানি রাতারাতি এসব সমস্যা সমাধান হবে না। কিন্তু এগুলো সমাধানের জন্য একটা সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দরকার। এতদিন আমরা নির্ভর করেছি শুধু সস্তা শ্রমের ওপরে। এই সস্তা শ্রমের কারণে নানা রকম দুর্ঘটনাও ঘটেছে। শ্রম আইন মানা হয়নি, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হয়নি। এমনকি মজুরি দেওয়ার ক্ষেত্রেও নানা ধরনের টালবাহানা করা হয়েছে। কর্মপরিবেশের উন্নতি নিয়েও নানা ধরনের সমস্যা আছে। বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলো কিন্তু সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভরশীল নয়। তাদের প্রতিযোগিতাসহায়ক শক্তিশালী অবকাঠামো, বড় ধরনের দক্ষ শ্রমিক, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগসহায়ক নীতিমালা, সামস্টিক অর্থনীতি, বিনিময় হার। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করেছে ওই সব দেশ। সেখানে বাংলাদেশ একেবারেই পিছিয়ে রয়েছে।
নির্বাহী পরিচালক, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)