নিউইয়র্ক সিটির উবার এবং লিফটের ৯০ হাজার চালকের ৩২৮ মিলিয়ন ডলার চুরির ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক হাজার বাংলাদেশিসহ ৬৫ হাজার চালক তাদের চুরির অর্থ ফেরত পেয়েছেন। বাকি প্রায় ২৫ হাজার চালককে ৩১ মার্চের মধ্যে আবেদন করতে বলা হয়েছে। নইলে উবার-লিফটের চুরি করা অর্থ বেহাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২৭ মার্চ দুপুরে নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে ‘লিটল বাংলাদেশ’ পাদদেশে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কঠোর পরিশ্রমী ট্যাক্সি চালকদের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে সোচ্চার সিটি কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফ দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর চুরির অর্থ ফেরত পাওয়া যাচ্ছে। এ আইনি লড়াই চালিয়েছিল ‘নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কারস অ্যালায়েন্স’ এবং সরেজমিনে তদন্ত করেছেন নিউইয়র্ক স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশা জেমস। জানা গেছে, নিউইয়র্ক সিটিতে সর্বদা সচল রাখতে অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালনরত ট্যাক্সিচালকদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশি। আর মোট চালকের ৯৫ ভাগই অভিবাসী। যাদের সংসার চলে ড্রাইভিংয়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে। সেই অর্থ চুরি করেছিল উবার ও লিফট কোম্পানি।
এ সময় নিউইয়র্ক ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক ভৈরবী দেশাই বলেন, ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে যারা উবার অথবা লিফট চালিয়েছেন তারাই যোগ্য এ অর্থ পাবার। ভৈরবী বলেন, চুরি করা অর্থ উদ্ধারে আমাদেরকে পরপর তিনটি মামলা করতে হয়েছে। একপর্যায়ে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশা জেমসের তদন্তে ৩২৮ মিলিয়ন ডলার চুরির তথ্য উদ্ঘাটিত হয়। নিউইয়র্ক স্টেটে কঠোর পরিশ্রমীদের উপার্জিত অর্থ চুরির এটি হচ্ছে সবচেয়ে বড় একটি ঘটনা। উবার এবং লিফট চুরির কথা স্বীকার করে ৩২৮ মিলিয়ন ডলার সংশ্লিষ্ট ড্রাইভারদের ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে উবার-লিফটের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্স। সংবাদ সম্মেলনে দুজন চালক ছাড়াও কথা বলেছেন দেশিজ রাইজিং আর অ্যান্ড মুভিংয়ের কর্মকর্তা কাজী ফৌজিয়া। ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স অ্যালায়েন্সের বাংলাদেশি সংগঠক টিপু সুলতানসহ ভারতীয়, পাকিস্তানি ও কয়েকজন নেপালি।