যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের অর্থনীতি পুনর্গঠনে আনুমানিক ৫২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন। এই অর্থ দেশটির ২০২৪ সালের প্রত্যাশিত মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের প্রায় তিনগুণ।
বিশ্ব ব্যাংক, জাতিসংঘ, ইউরোপীয় কমিশন এবং ইউক্রেন সরকারের এক যৌথ সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমীক্ষায় ২০২১ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর থেকে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি বৃদ্ধি পেয়েছে ৭০ শতাংশ।
গত বছরের ৪৮৬ বিলিয়ন ডলারের অনুমানের তুলনায় এবারের খরচ সাত শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাসন, পরিবহন, জ্বালানি, বাণিজ্য ও শিক্ষা খাত।
দীর্ঘমেয়াদে আবাসন খাতের ক্ষতিপূরণে প্রয়োজন প্রায় ৮৪ বিলিয়ন ডলার, পরিবহন খাতে ৭৮ বিলিয়ন ডলার, জ্বালানি ও খনি খাতে ৬৮ বিলিয়ন ডলার, বাণিজ্য ও শিল্প খাতে ৬৪ বিলিয়ন ডলার এবং কৃষি খাতে দরকার ৫৫ বিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ধ্বংসাবশেষ অপসারণ এবং ব্যবস্থাপনার পেছনেই ১৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে।
বিশ্ব ব্যাংকের ইউরোপ ও মধ্য এশিয়া অঞ্চলের সহ-সভাপতি আন্তোনেলা বাসানি বলেছেন, এই মূল্যায়ন ইউক্রেনের অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
তবে এই সমীক্ষায় আটটি খাতে ১৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি চাহিদা বাদ দেওয়া হয়েছে, যা ইউক্রেন এরই মধ্যে তার অংশীদার এবং বেসরকারি খাতের সহায়তায় পূরণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় বাজেট এবং দাতা তহবিল থেকে গৃহায়নের চাহিদার জন্য বিতরণ করা প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং ২০০০ কিলোমিটারের বেশি রাস্তা মেরামত জরুরি।
ইউক্রেন সরকার ২০২৫ সালের জন্য ৭ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রেখেছে, যেখানে দাতাদেরও সহায়তা থাকবে। তবে এখনও প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে বলে যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের সরাসরি ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে ১৭৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছিল ১৫২ বিলিয়ন ডলার। সূত্র: রয়টার্স
বিডি প্রতিদিন/একেএ