সুস্থ শিশু মানেই হাসিখুশি ও দুরন্তপনা। সুস্থ-স্বাভাবিক শিশু খানিকটা চঞ্চল হবেই। তবে অতিচঞ্চল শিশুর সমস্যাকে বলা হয় এডিএইচডি, কথাটির পুরো অর্থ হল Attention deficit hyperactivity disorder (ADHD)। এটি একটি neurodevelopmental disorder যা শিশুদের মধ্যে প্রচুর দেখা যায় এবং বড় হওয়ার পরও অনেক সময় এটা থেকে যায়। তবে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে এডিএইচডি-কে পুরোপুরি সারানো যায়, প্রথম থেকে চিকিৎসা শুরু হলে খুব ভালো ফলাফল দেখা যায়।
এডিএইচডি বা অতিচঞ্চলতা কেন হয়?
বিশেষজ্ঞরা এখন পর্যন্ত এডিএইচডি, ঠিক কী কারণে হয় সেকথা বিশদভাবে নির্ধারণ না করতে পারলেও একথা বুঝতে পেরেছেন যে, নিউরোট্রান্সমিটারের সক্রিয়তা নিম্নমাত্রায় থাকার ফলে মস্তিষ্ক সঠিক সংবাদ গ্রহণ করতে পারছে না। এই নিউরোট্রান্সমিটার সঠিক সংবাদ না পাঠাতে পারলে মনোযোগ, আবেগ প্রশমন, সংগঠিত চিন্তাধারা এবং উচিত-অনুচিত বোঝার শক্তি থাকে না। যার ফলে ব্যবহারে অসমানতা পরিলক্ষিত হয়।
ডা. রাসেল আক্তারের মতে, বাংলাদেশে ২০১৪ সালের পর থেকে এন্ড্রয়েড ফোন ব্যাপকভাবে শিশুদের ব্যবহার, এডিএইচডি ত্বরান্বিত করেছে। তবে উন্নত রোগ নির্ণয় পদ্ধতি এবং সচেতনতা বৃদ্ধি এডিএইচডি চিহ্নিত হওয়ার কারণ হতে পারে। যা দেখে বোঝা যায় শিশুটি এডিএইচডি বা অতিচঞ্চলতা-
★ কোনো বিষয়ের প্রতি বেশিক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা।
★ সারাক্ষণ ছোটাছুটি করা, চিন্তা-ভাবনা না করে হঠাৎ কিছু করে ফেলা।
★ স্থির হয়ে বসে থাকতে না পারা।
★ বই-কলম প্রায়ই হারিয়ে ফেলা।
★ লাফিয়ে উঁচুতে উঠে যাওয়া।
★ প্রশ্ন শোনার আগে জবাব দেওয়া।
★ পড়ালেখা এমনকি খেলাধুলায় মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা।
★ বড়দের কাজে বা কথার মধ্যে বাধা দেওয়া।
★ একসঙ্গে অনেক কিছু করার চেষ্টা করা, তবে কোনোটাই শেষ করতে না পারা।
অতিচঞ্চলতার এই লক্ষণগুলো যদি সাত বছরের কম বয়সী শিশুর মধ্যে কমপক্ষে ছয় মাস ধরে দেখা যায় এবং এ কারণে যদি তার পড়ালেখা বাধাগ্রস্ত হতে থাকে, তখন সেটিকে এডিএইচডি বলা হয়।
এডিএইচডি বা অতিচঞ্চলতায় করণীয়-
★ যদি শিশুর মধ্যে অতিচঞ্চলতার লক্ষণ থাকে, তাহলে একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
★ শিশুর জন্য একটি রুটিন তৈরি করুন। বাড়ির সবাই সঠিক নিয়ম মেনে চলুন। যেমন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো, সঠিক সময়ে খাবার খাওয়া ও খেলার সময়ে খেলা ইত্যাদি।
★ শিশুকে কোনো নির্দেশ দিলে সেটি তাকে বুঝিয়ে বলবেন। রূঢ় আচরণ করবেন না।
★ শিশুর ভালো কাজের প্রশংসা করুন, কখনো তাকে পুরস্কৃত করুন।
★ শিশুর খাদ্য তালিকায় কৃত্রিম রং ও মিষ্টির পরিমাণ কমিয়ে তাজা ফলমূল যুক্ত করুন।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে এডিএইচডি-কে পুরোপুরি সারানো যায়, তাই প্রথম থেকে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শুরু করুন। কেননা হোমিও মেডিসিন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হীন, যা লক্ষণ দেখে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। তাই বাচ্চাকে সুস্থ জীবনদানে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
লেখক : সিনিয়র কনসালটেন্ট ও অটিজম গবেষক। ফোন : ০১৮১৩-৩২৬৫৯৫
বিডি প্রতিদিন/এমআই